বিদেশি পাসপোর্টের অপব্যবহার রুখতে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়মে বড় বদল

ভারতীয় পাসপোর্টের অপব্যবহার রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনল মোদি সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য এখন থেকে তাদের পূর্বতন দেশের পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ‘নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিধি, ২০২৬’-এর আওতায় এই নতুন নিয়মটি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই দেশজুড়ে বলবৎ করা হয়েছে।
তথ্য গোপন রুখতে কঠোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, উল্লিখিত তিন দেশের আবেদনকারীদের স্পষ্ট জানাতে হবে যে তাদের কাছে বর্তমানে কোনও বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রয়েছে কি না। পাসপোর্ট থাকলে তার নম্বর, ইস্যুর তারিখ, স্থান এবং মেয়াদ শেষের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। আর যদি পূর্বের কোনও পাসপোর্ট না থাকে, তবে সেটিও হলফনামা আকারে ঘোষণা করতে হবে। শুধু তাই নয়, ভারতের নাগরিকত্ব মঞ্জুর হওয়ার ঠিক ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তাঁর পূর্বতন দেশের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টটি স্থানীয় ডাক বিভাগের আধিকারিকের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রানুসারে, এই কড়াকড়ির মূল কারণ হলো আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল যে, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে নিজেদের পুরোনো বিদেশি পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দিচ্ছিলেন, যা ভারতীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিজেদের অতীত ইতিহাস ও পরিচয় গোপন করে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার চেষ্টা করছিল। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে জালিয়াতি ও পরিচয় গোপন করার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং আবেদনকারীদের অতীত ট্র্যাক করা সহজ হবে। তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মূল যোগ্যতার শর্তাবলীতে কোনও পরিবর্তন আসছে না।