সূর্যের চোখ রাঙানিতে পুড়ছে দেশ, ৪৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে দিল্লিতে মে মাসের রেকর্ড ভাঙা গরমে শঙ্কিত বিজ্ঞানীরা

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে, আর সেই আগুনে গরমে ওষ্ঠাগত দেশবাসীর প্রাণ। বিশেষ করে দেশের রাজধানী দিল্লির আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করেছে। গত দুই বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে মঙ্গলবার দিল্লির গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের এই পরিসংখ্যান দেখে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম উদ্বেগে পড়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরাও। মে মাসের অর্ধেক এখনও বাকি, এর পর রয়েছে জুন মাস। বিগত কয়েক বছরের প্রবণতা অনুযায়ী, জুলাইয়ের আগে সাধারণত স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মেলে না। ফলে আগামী দিনগুলোতে উত্তাপ কোন ভয়াবহ স্তরে পৌঁছাবে, তা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ও জনজীবনে বিপর্যয়
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লির সবকটি আবহাওয়া স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি বেশি। দিল্লির সফদরজং এবং পালমে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৭ ডিগ্রি বেশি। লোধি রোডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.২ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.২ ডিগ্রিতে এবং আয়ানগরে উত্তাপ সর্বোচ্চ ৪৫.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। এই আগুনে গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছাতা বা পর্যাপ্ত জল নিয়ে বাইরে বেরোলেও তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
কারণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দিল্লির সবুজ ধ্বংসের কারণেই প্রতি বছর আবহাওয়ার এমন চরম ভাবাপন্ন রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় কংক্রিটের শহর তাপ ধরে রাখছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, মাত্রাছাড়া উত্তাপে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা প্রবল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া কড়া রোদে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পান এবং ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।