প্রভাকরণকে বিজয়ের শ্রদ্ধা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে কি তবে ফিরছে ‘তামিল ইলম’ আবেগ!

প্রভাকরণকে বিজয়ের শ্রদ্ধা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে কি তবে ফিরছে ‘তামিল ইলম’ আবেগ!

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শ্রীলঙ্কার বিতর্কিত বিদ্রোহী সংগঠন এলটিটিই (লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম) প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক রাজনৈতিক ঝড় তুললেন টিভিকে প্রধান থলপতি বিজয়। ২০০৯ সালের ১৮ মে শ্রীলঙ্কা সেনার অভিযানে নিহত প্রভাকরণকে বিজয়ের এই স্মরণ কেবল বিতর্কের জন্ম দেয়নি, বরং দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিজেপি।

বিতর্কের মূলে ঐতিহাসিক ক্ষত ও জোটের টানাপোড়েন

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে হত্যার নেপথ্যে ছিল এই এলটিটিই সংগঠন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজয়ের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধী শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছে, যে সংগঠন তাঁর বাবাকে হত্যা করেছিল, সেই সংগঠনের প্রধানকে শ্রদ্ধা জানানো বিজয়ের সঙ্গেই এখন হাত মিলিয়ে সরকারে রয়েছে কংগ্রেস। ক্ষমতার অংশীদারিত্বের জন্য কংগ্রেস এই জাতীয় ইস্যু ও ঐতিহাসিক ক্ষতকে এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও জোরাল অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, অতীতে ডিএমকে-র এলটিটিই সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনেও কংগ্রেসের জোট রাজনীতিকে বিঁধেছে গেরুয়া শিবির।

গণহত্যা বনাম উগ্রপন্থা, বিজয়ের আত্মপক্ষ সমর্থন

বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই টিভিকে-র পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে। দলের একাধিক সূত্রের দাবি, এটি কোনো জঙ্গি নেতার প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং ২০০৯ সালের ১৮ মে শ্রীলঙ্কার ‘মুল্লিভাইক্কাল গণহত্যায়’ প্রাণ হারানো হাজার হাজার নিরীহ তামিল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। স্বয়ং বিজয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সমুদ্রের ওপারে বসবাসকারী তামিল স্বজনদের অধিকার রক্ষা এবং মুল্লিভাইক্কালের বেদনাদায়ক স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করতেই এই সংহতি প্রকাশ। ভোটের প্রচার পর্বেও প্রভাকরণের নাম ব্যবহার করেছিলেন অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া বিজয়।

সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় প্রায় তিন দশক ধরে চলা তামিল অধিকার রক্ষার সশস্ত্র আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের রক্ত ঝরেছে। তামিলনাড়ুর সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এটি মূল ইস্যু না হলেও, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে বিজয়ের এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘তামিল ইলম’ হাওয়াকে পুনরায় চাঙ্গা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আঞ্চলিক আবেগ তীব্র হলে একদিকে যেমন কংগ্রেসের মতো জাতীয় দলের পক্ষে তামিলনাড়ুর সরকারে টিকে থাকা নৈতিকভাবে কঠিন হবে, অন্যদিকে তেমনই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চেন্নাইয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *