এক দশক পর কাটল জট, স্বচ্ছ ভারত মিশনে যুক্ত হয়ে ২০০ কোটির প্রকল্প পাচ্ছে বাংলা

এক দশক পর কাটল জট, স্বচ্ছ ভারত মিশনে যুক্ত হয়ে ২০০ কোটির প্রকল্প পাচ্ছে বাংলা

দীর্ঘ ১০ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এ যুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লির বুকে আয়োজিত স্বচ্ছ ভারত মিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের উপস্থিতি এই পালাবদলের ইঙ্গিতকে আরও স্পষ্ট করেছে। ইতিপূর্বে আয়ুষ্মান ভারত এবং জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পে রাজ্যের সক্রিয়তার পর, এবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধ মেলাতে চলেছে বাংলা।

প্রাথমিক ধাপে চার শহরে পাইলট প্রজেক্ট

নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় রাজ্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে প্রাথমিকভাবে এই মিশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর ও আসানসোলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দুই পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং এবং কালিম্পংকে পাইলট প্রজেক্টের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই চার শহরের সার্বিক রূপান্তরের জন্য প্রাথমিক পর্যায় লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব জমা পড়লে প্রয়োজনীয় তহবিলের কোনও ঘাটতি হবে না। চলতি মাসের শেষেই কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সফরে আসছেন।

প্লাস্টিকমুক্তি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন রূপরেখা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেবল মাত্র প্রধান সড়কগুলোই নয়, শহরগুলোর অলিগলির পরিচ্ছন্নতার ওপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পাইলট প্রজেক্টের আওতাভুক্ত শহরগুলোকে সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আবর্জনাকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, স্থায়ী পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে স্কুলস্তরের পাঠ্যক্রমে ‘স্বচ্ছ ভারত’ সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত মিলেছে।

উন্নয়নের গতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনীহা এবং বরাদ্দ অর্থের মাত্র ১৬ শতাংশ খরচ হওয়ার কারণে রাজ্য দীর্ঘকাল কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে থমকে থাকা পুর-উন্নয়নমূলক কাজে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্টেশন চত্বর বা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে হকার উচ্ছেদের মতো কঠোর পদক্ষেপ যেমন বিতর্ক তৈরি করেছে, তেমনই কেন্দ্রীয় অর্থায়নে আধুনিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত হওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের শহরগুলোর পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *