সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা, কাঁটাতারের জমি জট কাটাতে বিএসএফের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী

সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা, কাঁটাতারের জমি জট কাটাতে বিএসএফের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এবং দেশের নিরাপত্তায় কোনো রকম আপস না করার বার্তা দিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই তিনি বিএসএফকে দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই এবার বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিকেলে উত্তরবঙ্গের ‘উত্তরকন্যা’য় প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করেই তিনি নবান্নে এই জরুরি বৈঠকে যোগ দেবেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নবান্নের অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে।

সীমান্তের বর্তমান চিত্র ও জমির সংকট

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২২১৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৬৪৭.৬৯৬ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে ১১২.৭৮০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি জট। প্রায় ৪৫৬ কিলোমিটারের কিছু বেশি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য নতুন করে জমি প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে মাত্র ৭৭ কিলোমিটার জমি এযাবৎ বিএসএফের হাতে এসেছে। বাকি অংশে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াটি এখনো বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে আটকে রয়েছে, আবার বেশ কিছু এলাকায় অধিগ্রহণের কাজ শুরুই করা যায়নি।

বৈঠকের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ডেডলাইন ঘোষণা করেছিলেন। মূলত জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয় বাড়াতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের এই সক্রিয় ভূমিকার ফলে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ গতি পাবে। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। রাজ্য ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এই যৌথ উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগেরও স্থায়ী সমাধান করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *