দিল্লির বঙ্গভবনেও এবার পরিবর্তনের ছোঁয়া, সবুজ কাপড়ে ঢাকল ‘বিশ্ববাংলা’র বিজ্ঞাপন!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার রাজধানী দিল্লির বঙ্গভবনেও তার বড়সড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় দিল্লির বঙ্গভবনে টাঙানো ‘বিশ্ব বাংলা’র একাধিক বিজ্ঞাপন, হোর্ডিং ও লোগো সবুজ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনের বিভিন্ন অংশে এই দৃশ্য নজরে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
পালাবদলের প্রভাব ও প্রশাসনিক তৎপরতা
তৃণমূল সরকারের আমলে ‘বিশ্ববাংলা’ ব্র্যান্ডটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। স্কুলের পোশাক থেকে শুরু করে সরকারি নথিপত্র, বিভিন্ন দপ্তরের চিঠিপত্র এবং নানা সরকারি প্রকল্পে এই লোগোর ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। লোগোটিতে ‘ব’ অক্ষরের নকশার ওপর ছোট আকারে অশোক স্তম্ভের প্রতীকও যুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে পরাস্ত করে বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পূর্বতন সরকারের এই ব্র্যান্ডিং সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই সব দপ্তরের সচিব এবং পুলিশ কর্তাদের সরকারি কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেই চিঠিতেও ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোর ব্যবহার করা হয়নি, যা লোগো বদলের চর্চাকে আরও জোরাল করে তুলেছিল। দিল্লির বঙ্গভবনের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আগের সরকারের সমস্ত প্রতীক ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের নিজস্ব নীতি ও ব্র্যান্ডিং অনুসরণের এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
যদিও এই লোগো ও বিজ্ঞাপন ঢেকে দেওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান, নথিপত্র এবং প্রকল্প থেকে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোটি স্থায়ীভাবে সরিয়ে নতুন কোনও প্রতীক বা নকশা চালু করা হতে পারে। দিল্লির বঙ্গভবনের এই ঘটনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।