দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা, আদিবাসী কল্যাণে রাজ্যে শুরু হলো জন ভাগীদারি অভিযান!

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে নদিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হলো ‘জন ভাগীদারি, সবসে দূর, সবসে পহেলে’ কর্মসূচি। গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সচেতনতার অভাবে যে সমস্ত মানুষ এখনও সরকারি আলো থেকে বঞ্চিত, মূলত তাঁদের মূল স্রোতে ফেরাতেই এই প্রশাসনিক উদ্যোগ।
প্রথম দফায় লক্ষ্য ৫০ শতাংশের বেশি আদিবাসী এলাকা
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় জেলার ৫টি ব্লকের ৯টি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামকে এই অভিযানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত যে সমস্ত গ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি, সেই এলাকাগুলোকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা গ্রামগুলির কোনোটিতে আদিবাসী জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ, কোথাও ৬৭ শতাংশ, আবার কোথাও তা সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট গ্রামের স্থানীয় স্কুলগুলোতে এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর-২, কৃষ্ণগঞ্জ, চাকদহ এবং কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের একাধিক আদিবাসী প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুল।
এক ছাদের তলায় সব মুশকিল আসান
প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) না থাকায় বহু আদিবাসী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই সমস্ত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শিবিরগুলোতে জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ অফিসার ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত থাকছেন। মেগা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও জাতিগত শংসাপত্র তৈরির আবেদন গ্রহণ, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ এবং আদিবাসী ছেলেমেয়েদের নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানান, এই শিবিরের মূল লক্ষ্যই হলো আদিবাসী ভাই-বোনদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ শুনে অনস্পট স্থায়ী সমাধান করা।
এক ঝলকে
- রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আদিবাসী কল্যাণে চালু হলো ‘জন ভাগীদারি, সবসে দূর, সবসে পহেলে’ কর্মসূচি।
- নদিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫টি ব্লকের ৯টি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে ১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই বিশেষ শিবির চলবে।
- ৫০ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত আদিবাসী জনসংখ্যা বিশিষ্ট প্রত্যন্ত গ্রামগুলোকে এই অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
- শিবিরে এক ছাদের তলায় কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ ও নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা মিলবে।