কালীঘাট টু ফলতা, এক অন্য ঐতিহাসিক গল্প জেনে নিন

কালীঘাট টু ফলতা, এক অন্য ঐতিহাসিক গল্প জেনে নিন

জাহাঙ্গীর খানের মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং কালীঘাট-ফলতা রেললাইনের হারানো ইতিহাস

বাংলার সমকালীন রাজনীতিতে কালীঘাট ও ফলতা এখন চরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান আসন্ন পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের ফলে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং ঘাসফুল শিবির সেখানে এক বড়সড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে বর্তমানের এই রাজনৈতিক উত্তাপের আড়ালে কালীঘাট ও ফলতার সংযোগকারী একটি চমৎকার ঐতিহাসিক অধ্যায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

লন্ডন কো ম্পা নির হাত ধরে রেলের যাত্রা

আজকের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বহু আগে, কালীঘাট ও ফলতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যোগাযোগের এক অনন্য মাধ্যমে। ব্রিটিশ আমলে লন্ডনের বিখ্যাত ‘ম্যাকলেওড অ্যান্ড কো ম্পা নি’ এই দুই অঞ্চলের মধ্যে একটি ন্যারোগেজ রেল পরিষেবা চালু করেছিল। ১৯১৭ সালের ২৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে কালীঘাট-ফলতা রেললাইন। প্রায় ২৬.৯৫ মাইল দীর্ঘ এই রেলপথটি তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের লাইফলাইন হয়ে উঠেছিল।

যোগাযোগের বিবর্তন ও বর্তমান প্রভাব

ঐতিহাসিক এই রেলপথটি সে যুগে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিল। ফলতার মতো গ্রামীণ এলাকাকে কলকাতার মূল কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে এই রেলের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সময়ের নিয়মে সেই ন্যারোগেজ রেল আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে, যার জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে পাকা সড়কপথ। ইতিহাস ও বর্তমানের এই মেলবন্ধনে স্পষ্ট যে, কালীঘাট ও ফলতার এই যোগসূত্র শুধু আজকের রাজনৈতিক সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর শিকড় এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো।

এক ঝলকে

  • পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে ফলতার টিএমসি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
  • এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার আবহে কালীঘাট ও ফলতার মধ্যকার এক শতাব্দীর পুরনো ঐতিহাসিক রেল যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
  • ১৯১৭ সালের ২৮ মে লন্ডনের ‘ম্যাকলেওড অ্যান্ড কো ম্পা নি’র উদ্যোগে ২৬.৯৫ মাইল দীর্ঘ কালীঘাট-ফলতা ন্যারোগেজ রেললাইন চালু হয়।
  • এক সময়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগের মাধ্যমটি বর্তমানে ইতিহাসের পাতায় স্থান পেলেও অঞ্চল দুটির সংযোগ আজও প্রাসঙ্গিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *