থলপতির বিজয়কে হিংসে করার প্রশ্নই ওঠে না, বিতর্ক উড়িয়ে অকপট রজনীকান্ত

থলপতির বিজয়কে হিংসে করার প্রশ্নই ওঠে না, বিতর্ক উড়িয়ে অকপট রজনীকান্ত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে গত ১০ মে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ (TVK) সুপ্রিমো জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থলপতির বিজয়’ নামে জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং রাজ্যের দুটি শক্তিশালী আঞ্চলিক দলকে পরাজিত করে বিজয়ের এই বিপুল জয় দাক্ষিণাত্যের চলচ্চিত্র জগৎকে গর্বিত করেছে। কমল হাসান, রামচরণ, বিজয় দেবেরাকোন্দ্রার মতো তারকারা নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও, এই আবহে বিজয়ের সাফল্য এবং প্রবীণ অভিনেতা রজনীকান্তের আচরণকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই সব জল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং রজনীকান্ত।

ঈর্ষার গুঞ্জন ও রজনীকান্তের স্পষ্ট জবাব

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল বিজয়ের নির্বাচনী প্রচারের সময় রজনীকান্তের একটি মন্তব্য এবং পরবর্তীতে চেন্নাই বিমানবন্দরে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রজনীকান্তের নীরবতা বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে। নেটদুনিয়ায় সমালোচনা শুরু হয় যে, নিজে রাজনীতির ময়দানে সফল হতে পারেননি বলেই কি জুনিয়র অভিনেতার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত ‘থালাইভা’?

এই বিষয়ে এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রজনীকান্ত স্পষ্ট জানান, তিনি বিজয়কে হিংসে করতে যাবেন কেন! তিনি কিছুটা রসিকতা ও স্পষ্টবাদিতার সঙ্গেই বলেন, কমল হাসান যদি মুখ্যমন্ত্রী হতেন, তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও ঈর্ষান্বিত বোধ করতেন। তবে রজনী এমন সস্তা বা নিচু মানসিকতার মানুষ নন যে, যেকোনো বিষয় নিয়ে অকারণ মন্তব্য করবেন। বিজয়ের চেয়ে তিনি ২৮ বছরের বড় এবং তাঁর মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যদি তিনি নিজে লড়াই করতেন, তবে তিনিও জিততেন।

ঐতিহাসিক জয় ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রভাব

অনুজ অভিনেতা বিজয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে রজনীকান্ত বলেন, মাত্র ৫১ বছর বয়সেই বিজয় তামিল রাজনীতির কিংবদন্তি এমজিআর এবং এনটিআর-এর চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিজয়ের এই একার লড়াই ও জয় অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আনন্দের।

দক্ষিণী সিনেমার ইতিহাসে শিবাজি গণেশন, এমজিআর, এনটিআর কিংবা কমল হাসানের মতো মেগাস্টাররা রাজনীতিতে এলেও প্রথমবারে বিজয়ের মতো এমন জাদুকরী আসন সংখ্যা ছুঁয়ে ইতিহাস গড়তে পারেননি। কমল হাসান ২০১৮ সালে দল গঠন করলেও ভোটে সাফল্য পাননি, অন্যদিকে রজনীকান্ত নিজেও রাজনীতিতে আসার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত সক্রিয় হননি। বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। রজনীকান্তের এই প্রকাশ্য সমর্থন ও প্রশংসা সিনেমা মহলের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *