মায়ের স্মৃতিতে আজও আবেগঘন অরিজিৎ সিং, জিয়াগঞ্জে নীরব শ্রদ্ধায় বিশেষ উদ্যোগ
.jpeg.webp?w=720&resize=720,540&ssl=1)
ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন প্রখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং। তবে জীবনের অন্যতম কঠিন একটি অধ্যায় ও গভীর শূন্যতার স্মৃতি আবারও ফিরে এল গায়কের পরিবারে। দেখতে দেখতে কেটে গেল পাঁচটি বছর। ২০২১ সালের ১৯ মে করোনা-পরবর্তী জটিলতায় নিজের মা অদিতি সিংকে হারিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও মায়ের স্মৃতি আজও সিং পরিবারের জীবনে সমান আবেগ ও শ্রদ্ধায় জড়িয়ে রয়েছে।
মায়ের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ বছরও সম্পূর্ণ নীরবে ও শান্ত পরিবেশে এক হৃদয়ছোঁয়া উদ্যোগ নিতে দেখা গেল গায়কের পরিবারকে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু চিত্রে দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নিজেদের বাড়ির একটি অংশ রজনীগন্ধার মালা ও সাদা ফুলে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। শান্ত ও আবেগঘন সেই আবহ সৃষ্টি করে মাঝখানে রাখা হয়েছে প্রয়াত অদিতি সিংয়ের ছবি। মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দিনটিতে জিয়াগঞ্জে একটি রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়েছিল।
সেই কঠিন দিনগুলোর ফিরে দেখা
২০২১ সালের মে মাসের সেই জটিল পরিস্থিতি এখনও অনেকের স্মৃতিতেই স্পষ্ট। আচমকাই খবর আসে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অরিজিতের মা। পরে জানা যায়, তিনি সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘এ নেগেটিভ’ রক্তের প্রয়োজন পড়েছিল। সেই সংকটের সময়ে সমাজকর্মী সুদেষ্ণা গুহর উদ্যোগে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় পৌঁছানো মাত্রই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও অনুরাগী। ‘ব্লাডমেটস’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্রুত সেই বিরল গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়।
তারকা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিকতা
মায়ের চিকিৎসার ওই কঠিন সময়ে কলকাতার বাইরে থাকলেও এক মুহূর্তের জন্যও নিজের দায়িত্ব থেকে সরেননি অরিজিৎ সিং। ফোনের মাধ্যমেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যবস্থার খোঁজখবর রেখেছিলেন তিনি। সংকটের দিনে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায় আপ্লুত হয়ে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন গায়ক।
একই সঙ্গে তারকা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি এক মানবিক বার্তা দিয়েছিলেন। অরিজিৎ অনুরোধ করেছিলেন, শুধুমাত্র তাঁর পরিচিত মুখের কারণে যেন হাসপাতালে কাউকে বাড়তি গুরুত্ব বা সুবিধা না দেওয়া হয়। বিপদের সময়ে সব মানুষের জীবনই সমান মূল্যবান— শিল্পীর এই বার্তা সে সময় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং শেষ মুহূর্তে ‘ইকমো’ (ECMO) সাপোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও অদিতি সিংকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পাঁচ বছর পরেও মায়ের সেই চলে যাওয়ার ক্ষত এবং শূন্যতা আজও অরিজিৎ সিং ও তাঁর পরিবারের প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট অনুভব করা যায়।