প্রকাশ্যে মিটমাটের ইঙ্গিত? অভিষেককে নিয়ে কুণালের মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা

ক্যালেন্ডার বদলেছে, বদলে গেছে ক্ষমতার সমীকরণও। নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। গত মঙ্গলবার, ১৯ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি বৈঠকে যে ঘটনা ঘটল, তা এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের ভরাডুবির পর বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রকাশ্য বৈঠকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, “একবার ওয়ান টু ওয়ান বসে নিলে হত না? এভাবে তো সবটা হয় না।” সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, কুণালের এই মন্তব্যে খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সায় দিয়ে অভিষেককে বলেন, “হ্যাঁ, কথা বলে নাও।”
ক্ষোভের অতীত ও ক্যামাক স্ট্রিটের দূরত্ব
এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত অবশ্য বেশ কিছুদিনের পুরোনো। বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বেলেঘাটা আসনে কুণাল ঘোষের প্রার্থী হওয়াটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একেবারেই পছন্দ ছিল না। সেই ক্ষোভের জেরেই কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে মমতার ডাকা কলকাতার এক বিশাল পদযাত্রায় অনুপস্থিত ছিলেন অভিষেক। এরপর আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যায়, অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ক্যামাক স্ট্রিটের দরজা কুণাল ঘোষের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের উত্তরও মিলত না। এই কঠিন সময়ে দলে কুণালের পাশে ছিলেন ব্রাত্য বসু, যাঁর সঙ্গেও ক্যামাক স্ট্রিটের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
ক্ষমতার নতুন ভরকেন্দ্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ডায়মন্ড হারবারের দুর্গ কিছুটা নড়বড়ে হতেই পাশা উল্টে গেছে। রাজনৈতিকভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কিছুটা চাপে, ঠিক তখনই অত্যন্ত চতুর কৌশলে নিজের অবস্থান শক্ত করলেন কুণাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা তাঁর ওপর আগে থেকেই ছিল, এবার নেত্রীর হস্তক্ষেপে অভিষেকের সঙ্গে মুখোমুখি বসার ছাড়পত্র মেলায় কুণাল শিবির এখন রীতিমতো যুদ্ধজয়ের মেজাজে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার গভীর প্রভাব পড়তে চলেছে তৃণমূলের অন্দরে। বিধানসভায় এখন তৃণমূল বিরোধী পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক যদি কুণালের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকে বসতে বাধ্য হন, তবে দলের অন্দরে কুণাল ঘোষের গুরুত্ব এবং দর কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অলিখিত ‘মুখ’ হয়ে ওঠার দৌড়ে কুণাল অনেকটাই এগিয়ে গেলেন, যা আগামী দিনে দলের রাশ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।