রণক্ষেত্রের মাঝপথেই হার মানল ‘পুষ্পা’! ফলতার পুনর্নির্বাচনের আগে চরম অস্বস্তিতে শাসকদল

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড় দেখল বাংলার রাজনীতি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও আচমকা ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। কিছুদিন আগেই যিনি বিরোধী বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নিজেকে জনপ্রিয় সিনেমা চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে গর্জে উঠেছিলেন, সেই প্রার্থীর এভাবে রণে ভঙ্গ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অথচ গত ২৯ এপ্রিল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ফলতার ভোট বাতিল করে আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় ভোটের দিন ধার্য করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ও নাটকীয় পটপরিবর্তন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নাটকীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে খোদ দলনেত্রীর কড়া অবস্থান। গত শনিবার ফলতার এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জাহাঙ্গির খানের নাম উল্লেখ করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সাধারণ নির্বাচনের সময় জমা পড়া সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, এলাকায় কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দেওয়া ১৯ জন কুখ্যাত দুষ্কৃতীর তালিকায় জাহাঙ্গিরের নাম থাকার বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। “কোথায় পুষ্পা? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না” এমন মন্তব্য করার পাশাপাশি দলনেত্রী স্পষ্ট জানান যে, এই প্রার্থীর দায়িত্ব তিনি নিজেই নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। এই বার্তার পরপরই জাহাঙ্গিরের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ঠিক মুখে প্রার্থীর এভাবে লড়াই থেকে পিছু হঠার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরেও বড়সড় অস্বস্তি ও ফাটল তৈরি করেছে। দলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যে পুষ্পা ‘ঝুঁকেগা নেহি’ বলেছিল, সে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকল কেন? একে দলের জন্য অত্যন্ত খারাপ বিজ্ঞাপন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর পেছনে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির কোনও ভীতিপ্রদর্শন রয়েছে কি না। এই এলাকাটি যেহেতু ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্তর্গত এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় ক্ষেত্রের অংশ, তাই বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে গভীর বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে মাঠ খালি করে দেওয়ায় ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।