বার্নপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে চলল বুলডোজার, রাজ্যজুড়ে দখলদারি উচ্ছেদে অনড় প্রশাসন

আসানসোলের বার্নপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা সেল (SAIL)-এর ইস্কো (IISCO) কর্তৃপক্ষের বুলডোজার অভিযানে গুঁড়িয়ে গেল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ দখলদারি মুক্ত করার যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, এই ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মঙ্গলবার বিপুল পুলিশবাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বার্নপুরের ত্রিবেণী মোড়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
অবৈধ নির্মাণ বনাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লড়াই
ইস্কো কর্তৃপক্ষের দাবি, পার্টি অফিসটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছিল। জমি খালি করার জন্য প্রশাসন ও সংস্থার তরফ থেকে আগেই একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠানো হলেও, তা পাত্তাই দেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই এই চরম পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে, এই অভিযানকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দেগে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের যুব নেতা অভিক গোস্বামী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে হারের পর তাঁদের দল এখন বিরোধী ভূমিকায় রয়েছে বলেই বেছে বেছে এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অফিসটি সাধারণ মানুষের আপদ-বিপদের আশ্রয় এবং জনসংযোগের কেন্দ্র ছিল। কোনো চূড়ান্ত আলোচনা ছাড়াই জোরপূর্বক বুলডোজার চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, সেলের জমিতে আরও বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে চললেও কেন শুধু বিরোধী দলের অফিস ভাঙা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই উচ্ছেদ অভিযানের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জমি থেকে অবৈধ দখলদারি হঠানোর আইনি বাধ্যবাধকতা। এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশনের সংলগ্ন এলাকাতেও একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ইস্কো কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। আগামী দিনে সংস্থার জমিতে থাকা অন্য সমস্ত অবৈধ নির্মাণও পর্যায়ক্রমে সরানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বুলডোজার অভিযানের ফলে একদিকে যেমন সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পাবে, অন্যদিকে তেমনই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলি একে রাজনৈতিক হেনস্থা হিসেবে তুলে ধরে জনমত গঠনের চেষ্টা করবে, যা আগামী দিনে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশাসন ও রেল বা সেলের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি যেভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাতে দখলদারি মুক্ত করার এই অভিযান আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।