মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসার পর আজ, বুধবার প্রথমবারের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে অভূতপূর্ব জয়ের পর নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। এই হাইপ্রোফাইল সফরে শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডে একটি নতুন উড়ালপুল উদ্বোধন করার পাশাপাশি উত্তরকন্যায় এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—এই পাঁচ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকসহ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরা।

উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ জোর

সামনেই বর্ষা, তাই উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে এই বৈঠকে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির পাশাপাশি পাহাড়ের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিতে পারেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের চা বাগানের দীর্ঘদিনের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ এবং জমি ও বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে নতুন সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে চলেছে। পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি হওয়া দুর্নীতি ও পুরসভাগুলোর অচলাবস্থা কাটানোই এখন নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

বদল রাজনৈতিক সংস্কৃতির

এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনে কোনো বিজেপি বিধায়ক প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি। তবে জমানা বদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বিরোধী বয়কট’ সংস্কৃতি ভেঙে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা রায়কে এই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক এই বৈঠকে যোগ দেবেন কি না তা স্পষ্ট না হলেও, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রত্যাশার চাপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

গত নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের ওপর প্রতিশ্রুতির চাপ রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দেওয়া এইমস, আইআইটি, ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পূরণের রূপরেখা তৈরি করা শুভেন্দু সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিগত জমানার ত্রিফলা বাতি কেলেঙ্কারি, সিন্ডিকেট রাজ এবং সরকারি জমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলের মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে আমজনতা তদন্তের দাবি তুলছে। আজকের এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর থেকে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য কী বার্তা দেন এবং প্রশাসনের রাশ কতটা শক্ত করেন, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *