খুনের নীল নকশা কি ভিনরাজ্যেই, বারাণসী থেকে নতুন গ্রেফতারিতে জোরালো হচ্ছে সিবিআইয়ের সন্দেহ

খুনের নীল নকশা কি ভিনরাজ্যেই, বারাণসী থেকে নতুন গ্রেফতারিতে জোরালো হচ্ছে সিবিআইয়ের সন্দেহ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও এক বড় সাফল্য পেল সিবিআই। এবার উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে বিনয় রাই নামে বছর চল্লিশের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় এই নিয়ে মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হলো। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বারাণসীর রিজার্ভ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে ধৃত বিনয়কে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হচ্ছে এবং বুধবারই তাকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হবে।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ধৃত বিনয় আদতে উত্তর প্রদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বারাণসীতে সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে এর আগেও খুন ও খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ মেলার পরেই বারাণসী পুলিশের সহায়তায় তাকে জালে তোলে সিবিআই।

ভিনরাজ্যের সুপারি কিলারের যোগসূত্র

গত ৬ মে রাতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ঠিক দুই দিন পর মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর গাড়ি থামিয়ে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়। রাজ্য পুলিশের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিআইটি) প্রথমে মায়াঙ্ক মিশ্র, রাজ সিং এবং ভিকি মৌর্য নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সিবিআই তদন্তভার হাতে নিয়ে উত্তর প্রদেশের বালিয়া থেকে রাজকুমার সিং নামে আরও একজনকে আটক করে। বিনয় রাইকে নিয়ে এই মামলায় ধৃত ৫ জনই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় ঘটনাটিতে পেশাদার সুপারি কিলারদের ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নেপথ্যের মূল চক্রী কে

এই হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং একের পর এক ভিনরাজ্যের অপরাধীর গ্রেফতারি ইঙ্গিত করছে যে, চন্দ্রনাথ রথকে সরাতে ভিনরাজ্যের অপরাধী চক্রকে সুপারি দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এই অপরাধের নেপথ্যে থাকা আসল চক্রী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’কে খুঁজে বের করা। ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, বাংলার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই খুনের সুপারি দিয়েছিল কি না। বিনয় রাইকে কলকাতায় এনে বাকিদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসল উদ্দেশ্য এবং সম্পূর্ণ নীল নকশাটি উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *