মাথা নত করার পাত্র আমি নই, পুরসভার নোটিস প্রসঙ্গে হুঙ্কার অভিষেকের

মাথা নত করার পাত্র আমি নই, পুরসভার নোটিস প্রসঙ্গে হুঙ্কার অভিষেকের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই খবরের শিরোনামে ঘাসফুল শিবির। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে খোদ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং বিজেপির বঙ্গ উত্থানের আবহে এবার নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো তৃণমূলের অন্দরে। দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও সুর নরম করতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ

সম্প্রতি কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ এবং তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পরিদর্শনে যান। সূত্রের খবর, সেই পরিদর্শনেই তাঁর বাড়ি দুটিতে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণের খোঁজ পান পুরসভার আধিকারিকরা। এর জেরেই কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিষেক নিজে ওই নির্মাণ না ভাঙলে পুরনিগম নিজস্ব উদ্যোগে তা ভেঙে দেবে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম অবশ্য দায় এড়িয়েছেন। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নোটিস সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। বিল্ডিং বিভাগ কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙবে বা কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেয়র স্থির করেন না। আইন অনুযায়ী পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এই পদক্ষেপ নিতে পারেন।

লড়াই জারির বার্তা ও বৈঠকের ক্ষোভ

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর পুরনিগমের এই তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই নোটিসকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির। দলের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, এসব করে তাঁর মাথা নত করা যাবে না এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে। বৈঠকে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন, আগামী দিনে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না।

এই বৈঠকেই ডায়মন্ড হারবারের ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গিরের লড়াই থেকে আচমকা সরে দাঁড়ানো এবং বিজেপিকে ওয়াকওভার দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়করা। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে জাহাঙ্গিরকে বহিষ্কারের দাবি উঠলেও, দল এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি এবং অন্যদিকে পুরসভার আইনি নোটিস—সব মিলিয়ে একাদিক ফ্রন্টে প্রবল চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এই আইনি ও রাজনৈতিক চাপকে হাতিয়ার করেই পাল্টা লড়াইয়ের ঘুঁটি সাজাচ্ছে তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *