দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স! প্রথম ১১ দিনেই শ্রীঘরে হেভিওয়েট সুজিত, দেবরাজ-সহ ১৩
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/19/suvendu-adhikari-2026-05-19-10-40-08.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পথচলা শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই তিনি বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত করার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। আর ক্ষমতায় আসার মাত্র ১১ দিনের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখল রাজ্যবাসী। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির যৌথ তৎপরতায় প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কের স্বামী থেকে শুরু করে দাপুটে ব্লক স্তরের নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হেভিওয়েটদের পতন ও সাঁড়াশি অভিযান
মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী বসার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে এক বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শিকার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দাপুটে নেতা সুজিত বসু। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ১৫০ জনের নাম সুপারিশ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এর ঠিক পরপরই, গত ১৯ মে গ্রেপ্তার করা হয় উত্তর ২৪ পরগনার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। ভোট পরবর্তী হিংসা, খুন ও দুর্নীতির মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ফেরার ছিলেন। অন্যদিকে, জমি দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় গত ১৮ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার হন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। একই দিনে তোলাবাজির অভিযোগে আসানসোলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি রাজু অহলুওয়ালিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি রেহাই পাননি প্রশাসনের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তারাও। সোনা পাপ্পু কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৪ মে ইডির জালে ধরা পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস।
তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তদন্তের জাল
তদন্তের এই গতি কেবল কলকাতার শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে জেলা থেকে ব্লকেও। গত ১৭ মে একই দিনে রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। তোলাবাজির অভিযোগে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাস এবং বেআইনিভাবে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের অভিযোগে দিনহাটার প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী ও পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১৩ মে বহরমপুরের কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদারকে তোলাবাজির অভিযোগে এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাপক ধড়পাকড়ের মূল কারণ হলো নতুন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে গতি আসায় অপরাধীদের আত্মগোপন করার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এই অভিযানের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং সরকারি স্তরে কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতি অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একসঙ্গে এতজন শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারির ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল আলোড়ন তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলিতে আরও সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।