কলোসিয়ামের সামনে মোদী ও মেলোনির ভাইরাল সেলফিতে উজ্জ্বল ভারত ও ইতালির নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

পাঁচ দেশ সফরের শেষ গন্তব্য হিসেবে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অ্যান্টনিও তাজানি। তবে এই সফরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার পরিচিত বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন। মঙ্গলবার রাতে রোমের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের সামনে দুই নেতার তোলা একটি সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
জর্জিয়া মেলোনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “রোমে আমার বন্ধুকে স্বাগত।” দুই নেতার নাম মিলিয়ে তৈরি অত্যন্ত জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ ‘মেলোডি’ (#Melodi) আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। কলোসিয়ামের চমৎকার আলোকসজ্জার আবহে তোলা এই ছবিটি মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ১৫ লক্ষেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সমীকরণ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বোঝাপড়াকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
ব্যক্তিগত রসায়ন থেকে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব
ভারত ও ইতালির এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হঠাৎ তৈরি হয়নি। এর আগে মেলোনি নিজেই এক সেলফিতে হাসতে হাসতে “হ্যালো ফ্রম দ্য মেলোডি টিম” বলে এই শব্দটির সূচনা করেছিলেন। এমনকি মেলোনির স্মৃতিকথার ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, যেখানে তিনি মেলোনিকে এক অসাধারণ নেতা ও অদম্য দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে মেলোনিও মোদীর জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। দুই দেশের এই শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
বাণিজ্য ও রণকৌশলগত যৌথ কর্মপরিকল্পনা
নেতৃত্বের এই মেলবন্ধনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দুই দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাতেও। ভারত ও ইতালি বর্তমানে ‘যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০২৫–২০২৯’ অনুযায়ী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সবুজ শক্তি এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি ডলারে। এছাড়া, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে ইতালির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ কোটি ডলার।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে পৃথক বৈঠকে বসবেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সদর দফতরে গিয়ে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের অবদান তুলে ধরবেন। এই সফরের মাধ্যমে ‘ইমেক’ (ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর) প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে, কলোসিয়ামের এই সেলফি কেবল একটি ছবি নয়, বরং তা দুই দেশের মজবুত ও ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতীক।