লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকলেও সবাই পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা!

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকলেও সবাই পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা!

রাজ্যে মহিলাদের আর্থিক সহায়তায় এক বড়সড় পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন, যা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করে আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মাপকাঠি স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হলেই যে সবাই এই নতুন সুবিধা পাবেন, তা নয়। সরকারি নিয়মের বেড়াজালে বাদ পড়ছেন বহু মহিলা।

কারা পাবেন এবং কীভাবে হবে আবেদন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি সব মহিলা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে ২৫ বছরের কম কিংবা ৬০ বছরের বেশি বয়সি নারীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন। প্রশাসন জানিয়েছে, যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না, তাঁরাও এই নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বিডিও (BDO) এবং শহুরে এলাকার ক্ষেত্রে মহকুমা শাসক (SDO) আবেদনপত্র যাচাই করবেন। কলকাতা পৌরনিগম এলাকার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট পুর-আধিকারিকদের ওপর। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সুবিধাভোগীদের তালিকা পোর্টালে আপলোড করা হবে।

টাকা পাবেন না যে সব মহিলারা

সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতাভুক্ত অনেক মহিলাই এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী, নিয়মিত বেতন বা পেনশনভোগী, সরকারি সংস্থা, পঞ্চায়েত, পৌরসভা কিংবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে, যাঁরা আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন, তাঁরাও এই তালিকায় স্থান পাবেন না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যাঁরা মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ‘এসআইআর ২০২৬’ (SIR 2026) চলাকালীন চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের নাম এই নতুন প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে যেসব সুবিধাভোগী এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কিংবা ‘নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন’-এর অধীনে আবেদন করেছেন, তাঁদের বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে টাকা দেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনিক তৎপরতা

আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, কড়া যাচাইকরণের কারণে বহু নাম বাদ পড়তে চলেছে। জেলাগুলির ক্ষেত্রে জেলাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে পুর-কমিশনার চূড়ান্ত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভুয়া বা অযোগ্য প্রাপকদের চিহ্নিত করে সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত অভাবী নারীদের কাছে সরাসরি বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *