মাঝপথে ভোটের আশঙ্কা! বিজয় সরকারের পতন নিয়ে স্ট্যালিনের মন্তব্যে উত্তাল তামিলনাড়ু

নির্বাচনের পরেও তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ময়দানে পারদ ক্রমশ চড়ছে। অভিনেতা বিজয় থালাপতির দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগাম’ (টিভিকে) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দক্ষিণের এই রাজ্যে নতুন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এই আবহে এবার আগুনে ঘি ঢেলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম.কে. স্ট্যালিন। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর একটি চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মেঘ ও স্ট্যালিনের হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি ডিএমকে-র জেলা সচিবদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন দাবি করেছেন, তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটেও স্থিতিশীল নয়। অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার যে কোনও মুহূর্তে সংকটে পড়তে পারে। ফলে রাজ্যে আবারও একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি দলের কর্মী ও নেতাদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে হারের কারণ খতিয়ে দেখতে ডিএমকে ইতিমধ্যেই ৩৬ জনের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। স্ট্যালিন তাঁর দলের নেতাদের সনাতনী প্রচার ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে জনগণের মেজাজ সরাসরি বোঝার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
টলোমলো সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজয় থালাপতির আকস্মিক উত্থানে তামিলনাড়ুর চিরাচরিত ডিএমকে-এডিএমকে দ্বিমুখী রাজনীতির চেনা ছকটি ওলটপালট হয়ে গেছে। তবে এই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ডিএমকে শিবিরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজয়ের সরকার মূলত বিভিন্ন দলের জোট এবং বাইরে থেকে আসা বিধায়কদের সমর্থনের ওপর টিকে রয়েছে। ফলে জোটসঙ্গীদের অসন্তোষ, এডিএমকে-র বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অবস্থান পরিবর্তন কিংবা আকস্মিক কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হলে সরকারের পতন অনিবার্য। এই নড়বড়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই ডিএমকে ফের ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরতে চাইছে।
অন্য দিকে, ডিএমকে-র এই আশঙ্কা ও দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল টিভিকে। বিজয়ের দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি, সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের রয়েছে এবং জোট সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে তাঁরা পূর্ণ মেয়াদ সফলভাবে সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। তবে দুই শিবিরের এই চাপানউতোরের জেরে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতি যে চরম অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।