জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে মুখোমুখি হতে পারেন মোদী ও ট্রাম্প, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

আগামী জুন মাসে ফ্রান্সের মাটিতে মুখোমুখি হতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে এখন এই সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের মনোরম আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত ‘এভিয়ান-লে-বেঁ’ শহরে বসছে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের অবসরেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে তাঁদের শেষ বৈঠক হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও মূল আলোচ্য বিষয়
হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, এবারের জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ জোর দেবেন। তবে ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকে হয়তো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না, তবে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে এটি একটি বড় ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারে। আলোচনার টেবিলে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান পরিস্থিতি স্থান পেলেও, ট্রাম্পের মূল নজর থাকবে বাণিজ্য-সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর ওপর।
ভূ-রাজনীতি ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিল্পোন্নত সাতটি দেশের এই মঞ্চে মোদী-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের বাণিজ্য-কেন্দ্রিক নীতির কারণে ভারতের সাথে শুল্ক ও আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সাথে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই দুই শীর্ষ নেতার আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জুনে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের ঠিক পরপরই শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলন তাই বিশ্ব কূটনীতির নজর কাড়তে চলেছে।