উত্তরবঙ্গকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক বছরের মধ্যেই পূরণ হবে সংকল্পপত্রের সব প্রতিশ্রুতি, শিলিগুড়িতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়িতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি আগামী এক বছরের মধ্যে পূরণ করবে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে বিগত নির্বাচনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য উত্তরবঙ্গকে বিজেপির ‘ভদ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নকে সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপি একচেটিয়া সাফল্য পেয়ে আসছে। ফলে সরকার গঠনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার উত্তরকন্যায় নির্ধারিত প্রশাসনিক বৈঠকের আগে শিলিগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতিগুলো সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যার কিছু সুফল আগামী জুন মাস থেকেই রাজ্যবাসী পেতে শুরু করবেন।
উন্নয়নে নতুন রূপরেখা ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম
উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে দলীয় কর্মীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রস্তাব আহ্বান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে তিনি আবারও উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। তার আগে স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব কর্মীরা জেলা সভাপতিদের মাধ্যমে সরাসরি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারবেন। জুলাইয়ের সফরে সেই প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখে যেগুলো দ্রুত সম্ভব, তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজে স্থানীয় মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি যুক্ত করার একটি নতুন প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ব্যবস্থার পরিবর্তন ও রাজনৈতিক বার্তা
নিজের বক্তব্যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত দিনে পাহাড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে তাঁর সরকার বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। ঝান্ডা বা ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, বরং তিনি রাজ্যে ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’ চান।
মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, তাঁর সরকারের আমলে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে গত দুই সপ্তাহে প্রশাসনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনে কাটমানি, সিন্ডিকেট-রাজ এবং মাফিয়া সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য, যা উত্তরবঙ্গসহ সমগ্র রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।