বন্ধের নোটিস উপেক্ষা করেই চলছিল নার্সিংহোম, কাটোয়ায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ!

বন্ধের নোটিস উপেক্ষা করেই চলছিল নার্সিংহোম, কাটোয়ায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ!

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের কাছারিরোডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসবের পর এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চিকিৎসার গাফিলতি এবং বন্ধের নোটিস থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোম খোলা রাখার মতো গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কেতুগ্রামের মুরুন্দি গ্রামের বাসিন্দা সুস্মিতা প্রধান (২৭) নামে ওই প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা। ঘটনার জেরে রাতেই নার্সিংহোমে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।

সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল

অভিযোগ উঠেছে, পরিকাঠামোগত ত্রুটি ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কাটোয়া কাছারিরোডের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমটিকে কয়েক মাস আগেই বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছিল নার্সিংহোমটি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নার্সিংহোমের বৈধতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল বসুর দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তরের কালো তালিকাভুক্ত একটি নার্সিংহোমে শুধুমাত্র আর্থিক মুনাফার স্বার্থে রোগী পাঠিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। তবে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্বের ত্রুটিগুলি সংশোধন করেই তাঁরা পরিষেবা চালু রেখেছিলেন।

ঘটনার কারণ ও চিকিৎসকের ভূমিকা

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সুস্মিতাদেবী। গত মঙ্গলবার সকালে কাটোয়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে তাঁকে দেখানো হলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা বলেন এবং রোগীকে ওই নির্দিষ্ট বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী ভর্তির পর বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সুস্মিতাদেবী। প্রাথমিকভাবে সুস্থ থাকলেও বিকেল পাঁচটা নাগাদ আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। সদ্যোজাত শিশুটি অবশ্য সুস্থ রয়েছে।

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, প্রসবের পর রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন। হঠাৎ বুকে যন্ত্রণা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় সাধ্যমতো চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কীভাবে একটি নার্সিংহোম দিনের পর দিন সচল রইল, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। ঘটনার জেরে একদিকে যেমন ওই চিকিৎসকের পেশাগত ভূমিকা ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে জেলার বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *