ভোট পরবর্তী হিংসায় কড়া বার্তা, স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করে বিপাকে বিজেপির ৪ নেতা

ভোট পরবর্তী হিংসায় কড়া বার্তা, স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করে বিপাকে বিজেপির ৪ নেতা

ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবার নিজেদের দলের অন্দরেই কড়া পদক্ষেপের পথ বেছে নিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল এবং হিংসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার যে বার্তা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছিল, তা যে কেবল কথার কথা নয়, পুরুলিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাই তার প্রমাণ। এক সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুরুলিয়ার এক জেলা পরিষদ সদস্যসহ ৪ জন বিজেপি নেতাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ পাঠিয়েছে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। এই কড়া পদক্ষেপের জেরে পুরুলিয়ার গেরুয়া শিবিরের অন্দরে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বঙ্গ বিজেপি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা বাঘমুন্ডি বিধানসভার কনভেনার রাকেশ মাহাতো, বাঘমুন্ডির একটি মণ্ডল সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং ওই ব্লকের দুই বিজেপি নেতা মোহন সিং দেও ও মিঠুন কুমার। নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর এক সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় হুমকি, শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই নেতাদের বিরুদ্ধে। এই ধরনের আচরণকে দলবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই শোকজের চিঠি পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁদের সমস্ত রকম দলীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং দলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছিলেন। কর্মীদের বারবার হিংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও পুরুলিয়ার এই ঘটনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে। একই সাথে জেলা পরিষদ সদস্য রাকেশ মাহাতোর নির্বাচনী কাজকর্ম নিয়ে দলের অন্দরেই বেশ কিছু কর্মী-নেতার ক্ষোভ ছিল, যা এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব

এই পদক্ষেপের ফলে দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একদিকে এটি প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির সংস্কৃতিকে যেমন কিছুটা লাগাম পরাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে ভোটের ঠিক পরেই জেলা স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় সংগঠনে সাময়িক অস্থিরতা বা কোন্দল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *