বীরভূমের নিভৃত গ্রামে কোটি টাকার ‘সোনার স্টেডিয়াম’, মালিকানা ঘিরে শোরগোল!

বীরভূমের সদাইপুর থানার প্রত্যন্ত গুনসিমা গ্রামে তৈরি হয়েছে এক অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, আধুনিক ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের থাকার আবাসন— আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামটি এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নয়, এই আস্ত স্টেডিয়ামের একক মালিকানার দায়িত্বে রয়েছেন দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহিম শেখ। গ্রামীণ স্তরে একজন নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় এমন বিপুল পরিকাঠামো গড়ে ওঠার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মেকানিক থেকে কোটিপতি এবং সিএবির ক্যাম্প
স্থানীয় ক্রীড়া মহলের দাবি, জেলা স্তরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন বিশ্বমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে ওঠা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। পরিকাঠামো এতটাই উন্নত যে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লার প্রশিক্ষণে ‘ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল’ (সিএবি)-এর সিনিয়র বেঙ্গল দল এখানে তাদের প্রি-সিজন প্রস্তুতি শিবির পর্যন্ত সম্পন্ন করেছে। তবে এই রাজকীয় পরিকাঠামো প্রকাশ্যে আসতেই নেপথ্যের উৎস নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একজন সাধারণ মোটরসাইকেল মেকানিক থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে মহিম শেখ কয়েক কোটি টাকার এই সম্পত্তির মালিক হলেন, তা নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা ও তদন্তের দাবি
বিষয়টি সামনে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বীরভূম জেলা জুড়ে। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দাবি, তৃণমূলের শাসনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিম শেখ বেআইনি কয়লা ব্যবসা, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। এই রাজকীয় সম্পত্তির নেপথ্যে থাকা দুর্নীতির সত্যতা উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
পাল্টা যুক্তিতে তৃণমূল নেতা মহিম শেখ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি একজন একনিষ্ঠ ক্রীড়াপ্রেমী এবং নিজের বৈধ ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়েই এই স্বপ্নের স্টেডিয়াম তৈরি করেছেন। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করার জন্যই বিরোধী দল এই ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। এই ঘটনার জেরে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।