ঘাম ঝরানো গরমের মধ্যেই ভিজবে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণের জেলাগুলোতে কি মিলবে স্বস্তি?

ঘাম ঝরানো গরমের মধ্যেই ভিজবে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণের জেলাগুলোতে কি মিলবে স্বস্তি?

গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া আবহাওয়ার জোড়া সিস্টেমের জেরে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী সাত দিন গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া বদলের কারণ

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা এই খামখেয়ালি আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

উত্তরে ভারী দুর্যোগ ও দক্ষিণে অস্বস্তি

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ মে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং জেলায় ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে। ২২ ও ২৩ মে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে এবং আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে অতিভারী বৃষ্টির (৭-২০ সেমি) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বিপরীত দিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৫-৯৫% পর্যন্ত হতে পারে। তবে এর মধ্যেই ২০ ও ২১ মে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ডিগ্রি বেশি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। এই তীব্র গরম ও অস্বস্তি থেকে বাঁচতে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদে টানা কাজ করা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে পার্বত্য অঞ্চলে দৃশ্যমানতা হ্রাস এবং পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *