ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মিলল আঘাতের চিহ্ন, ভোপাল এইমসে কি তবে পচেই যাবে ত্বিষার দেহ?

ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মিলল আঘাতের চিহ্ন, ভোপাল এইমসে কি তবে পচেই যাবে ত্বিষার দেহ?

বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ভোপালে শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৩ বছর বয়সী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল। সম্প্রতি সামনে এসেছে ত্বিষার ময়নাতদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। রিপোর্টে শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যুর কথা বলা হলেও, একই সঙ্গে তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে মৃতার পরিবার। এর ফলে ভোপাল এইমসের মর্গে পড়ে থাকা দেহটি শেষ পর্যন্ত পচে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে পরিবারকে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ।

রিপোর্টে মিলল গুরুতর আঘাত ও গর্ভপাতের প্রমাণ

ভোপাল এইমসের ফরেন্সিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১২ মে রাতে বাড়ির ছাদে জিমন্যাস্টিক রিংয়ের দড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ত্বিষাকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর গলায় থাকা তির্যক লালচে দাগটি ফাঁসের চিহ্নের সঙ্গে মিলে যায়। তবে শুধু ফাঁসের দাগই নয়, মৃত্যুর আগে কোনো ভোঁতা বস্তুর আঘাতে ত্বিষার বাঁ হাত, কবজি, ডান হাতের আঙুল এবং মাথার ভেতরে কালশিটে তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি, মুখ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গে রক্তজমাট ভাব এবং কান ও নখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও মিলেছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ত্বিষার গর্ভপাত করানো হয়েছিল এবং জরায়ুতে তার প্রমাণও পেয়েছেন চিকিৎসকেরা।

চরিত্রহননের অভিযোগ বনাম পণের নির্যাতন

এই মৃত্যুর ঘটনায় পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে দুই পরিবারের মধ্যে। ত্বিষার শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংয়ের দাবি, ত্বিষা মাদকাসক্ত ছিলেন এবং গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই তাঁর আচরণ বদলে গিয়েছিল। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে ত্বিষার বাবা নবনিধি শর্মা দাবি করেছেন, জামিনে মুক্ত থেকে গিরিবালা তাঁর মৃত মেয়ের চরিত্রহনন করছেন। উল্টো পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে ত্বিষার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এই মুহূর্তে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তথা ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং পলাতক রয়েছেন, যদিও পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে।

দেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কা ও আইনি জটিলতা

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত এবং দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে অটল রয়েছে মেয়েটির পরিবার। এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই নতুন সংকট দেখা দিয়েছে মৃতদেহ সংরক্ষণ নিয়ে। পুলিশের পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভোপাল এইমসের মর্গে বর্তমানে দেহটি মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন দেহ অক্ষত রাখতে যে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা ওই হাসপাতালে নেই। ফলে দ্রুত দেহ নিয়ে না গেলে তা পচে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে একদিকে যেমন তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে তেমনই একটি মেয়ের রহস্যমৃত্যুর সঠিক বিচার পাওয়ার পথও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *