প্রাণনাশের হুমকির মুখেও রাজনীতি ছাড়ছেন না টলিউড তারকা সোহম চক্রবর্তী

রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ বিদায়ী বিধায়ক ও অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। সম্প্রতি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তবে এই হুমকির নেপথ্যে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত নেই, বরং জড়িয়ে রয়েছে বিনোদন জগতের একটি পুরোনো আর্থিক লেনদেন।
আট বছর আগের ছবির অগ্রিম নিয়ে বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে, যখন একটি বাংলা ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রযোজক তরুণ দাসের কাছ থেকে নিয়মমাফিক ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন সোহম। পরিচালকের আপত্তিতে সেই ছবি আর আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ আট বছর পর সম্প্রতি প্রযোজকের পক্ষ থেকে সেই অগ্রিম টাকা ফেরত চাওয়া হলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সোহমের দাবি, ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজকের ব্যর্থতায় ছবি বন্ধ হলে অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য নয়। অন্যদিকে প্রযোজকের অভিযোগ, সোহম সময় না দেওয়ায় ছবিটির কাজ করা যায়নি। এই দাবি অবশ্য অভিনেতা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
টাকা ফেরতের চাপ ও রাজনৈতিক ছদ্মবেশে হুমকি
সোহমের অভিযোগ, টাকা ফেরত না পেয়ে প্রযোজক তরুণ দাস মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং “তির-ধনুক চলবে, খেলা হবে” বলে হুমকি দেন। একই সাথে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে এবং ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও বিদায়ী বিধায়ক দাবি করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
আগামীর পরিকল্পনা
নির্বাচনে পরাজয় এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকির পরও সোহম চক্রবর্তী রাজনৈতিক ময়দান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনীতিতে তিনি থাকছেনই। তবে এই মুহূর্তে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি কিছুটা সময় নিজের পরিবারকে দিতে চান এবং একই সাথে তাঁর মূল পেশা অর্থাৎ অভিনয়ে আবারও পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।