দিল্লির বিজেপি সরকার বেশি দিন টিকবে না, বিধানসভায় হারের পর কালীঘাট থেকে তীব্র হুঙ্কার মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম দলীয় বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটের বাসভবনে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পর এটিই ছিল তৃণমূলের প্রথম বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এদিনের বৈঠক থেকে নির্বাচনী ধাক্কা সামলে তৃণমূল নেত্রী কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পতন আসন্ন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। রাজ্যের সদ্য গঠিত শুভেন্দু অধিকারী সরকারের উচ্ছেদ অভিযান এবং ‘বুলডোজার রাজনীতি’র তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রে বিজেপির শাসন আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না এবং খুব শীঘ্রই তারা দিল্লির বুক থেকে ক্ষমতাচ্যুত হবে। মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গেলেও তৃণমূল যে রাজপথের লড়াইয়ে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, এই বৈঠক থেকে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
সংখ্যালঘু ও হকার হেনস্থার অভিযোগ এবং রাজপথে আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট
দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নব্য গঠিত বিজেপি প্রশাসন ক্ষমতা হাতে পেয়েই রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করছে। ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসাংবিধানিক উপায়ে গরিব হকারদের দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে আগামী ২১ মে রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল। কলকাতার বালিগঞ্জ, হাওড়া জংশন এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ সংগঠিত করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের দিনই এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিজেপিকে সরাসরি মাঠেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
ধমকে-চমকে লাভ হবে না এবং আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
কালীঘাটের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সম্প্রতি কথিত বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে একটি ভাঙার নোটিশ পাওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, এসব ধমকে-চমকে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না। উল্টো মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাল্টা অভিযোগ তুলে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্যদিকে, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর কলকাতা ও হাওড়াসহ বিভিন্ন জেলায় যে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আদালত-নিয়ন্ত্রিত তদন্তের দাবি জানিয়ে দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবীর গাউন পরে সশরীরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির হয়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিধানসভার ভেতরে এবং রাজপথে—উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকবে।