আরজি করের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে মরিয়া লালবাজার, সরকারি হাসপাতালের সুরক্ষায় জারি একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা

কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র রাখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা জানাল লালবাজার। সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ থানাগুলির সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এর পরেই লালবাজারের তরফে হাসপাতালগুলির সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কড়া নজরদারি ও প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের মূল প্রবেশদ্বারে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ি সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা ও তল্লাশি করতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের প্রবেশ রুখতে পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের (ওপিডি) ভিড় সামলাতে এবং সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ডিউটি রোস্টার তৈরি করে প্রতিদিনের কাজের শুরুতে ও শেষে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও রাত্রিকালীন নিরাপত্তা
হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলি সচল রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। নিরাপত্তায় নিযুক্ত বেসরকারি কর্মী এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা হচ্ছে। এছাড়াও, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপের জন্য হাসপাতাল চত্বরে হেল্পলাইন নম্বর স্পষ্ট করে ঝুলিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
দুই বছর আগে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি এই নিয়ে সরব হয়েছিল এবং চিকিৎসকদের দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর বিষয়টি প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে তৎপর। লালবাজারের এই কঠোর নির্দেশিকা কার্যকর হলে হাসপাতালগুলিতে রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা যেমন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, তেমনই যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।