বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে আইপ্যাকের লোক থাকার বিস্ফোরক দাবি নিয়ে ব্লকে বিজেপি বিধায়কের আকস্মিক হানা

রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে এবং সরকারি পরিষেবায় গতি আনতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পর থেকেই পুরোদস্তুর ‘অ্যাকশন মুডে’ থাকা এই জনপ্রতিনিধি মঙ্গলবার দুপুরে পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লক কার্যালয়ে একটি আচমকা পরিদর্শনে (সারপ্রাইজ ভিজিট) যান। সেখানে গিয়ে ব্লকের প্রশাসনিক কাজকর্মের ঢিলেঢালা রূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি এক মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তিনি। বিধায়কের দাবি, সরকারি ‘বাংলা সহায়তা কেন্দ্র’-এ এখনও ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর কর্মীরা অনৈতিকভাবে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ফাইলের স্তূপ ও কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর কড়া বার্তা
ব্লক কার্যালয়ের পরিদর্শনে গিয়ে জাতিগত শংসাপত্র প্রদানকারী বিভাগে ফাইলের পাহাড় দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বেঁধে দেওয়া সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের ‘অফিস আওয়ার’ সরকারি কর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সেখানে প্রায় ৫০০টি কাস্ট সার্টিফিকেটের আবেদনপত্র পড়ে থাকতে দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আগামী ২৭ তারিখের মধ্যে সমস্ত বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কড়া নির্দেশ দেন। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা চলবে না এবং সরকারি দপ্তরে কাজের চেনা পরিবেশ ও নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনতেই হবে।
হাসপাতাল থেকে ব্লক দপ্তর, সর্বত্রই নজরদারি
ব্লক কার্যালয়ে যাওয়ার ঠিক আগের দিনই দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড ক্যাম্পাসেও একই রকম আচমকা পরিদর্শন চালিয়েছিলেন বিধায়ক। সেখানে রোগীদের পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু বর্তমান ‘মানবিক সরকার’-এর আমলে সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই আকস্মিক পরিদর্শনের মূল কারণ হলো তৃণমূল স্তরে সরকারি কাজের দীর্ঘসূত্রতা কাটানো এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা। বিধায়কের এই কঠোর মনোভাবের পর পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের প্রধান করণিক সুশোভন দাস জানিয়েছেন, বিধায়কের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী দপ্তরের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার বিষয়ে কর্মচারীদের সচেতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়কের এই লাগাতার ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ জেলা প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য সৃষ্টির পাশাপাশি আমলা ও কর্মীদের কাজে গতি আনতে বাধ্য করবে।