আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়তে এবার রণক্ষেত্রে নামছে ইরানের প্রমিলা বাহিনী!

আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়তে এবার রণক্ষেত্রে নামছে ইরানের প্রমিলা বাহিনী!

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এবার সরাসরি রণক্ষেত্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের নারীরা। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি দেশের মহিলাদেরও বড় আকারে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে ইরান প্রশাসন।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ রণকৌশল

বর্তমান পরিস্থিতি আপাতশান্ত মনে হলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা তুঙ্গে। জানা গেছে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই আলোচনার মূল এজেন্ডাই ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরবর্তী যৌথ রণকৌশল নির্ধারণ করা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুই অক্ষের চাপ মোকাবিলায় ইরানও নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাল্টা প্রস্তুতি শুরু করেছে।

মহিলাদের হাতে অস্ত্র ও যুদ্ধের প্রস্তুতি

প্রতিপক্ষের এই রণকৌশল নস্যাৎ করতে ইরান এবার বয়স ও লিঙ্গের ভেদাভেদ ভুলে দেশের আপামর জনসাধারণকে সামরিক ফ্রন্টে শামিল করছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণী, কিশোরী ও নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। তেহরানের ভানাক স্কোয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নাবালিকা ও তরুণীদের একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের মতো মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ‘রাত্রিকালীন সমাবেশে’ যোগ দিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছেন এবং অস্ত্র চালনার দীক্ষা নিয়েছেন।

সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সর্বাত্মক জনযুদ্ধের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমেরিকার বিরুদ্ধে তারা কোনো সাধারণ প্রতিরোধে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নারীদের এই প্রমিলা বাহিনীকে সম্মুখ সমরে নামানোর সিদ্ধান্ত মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকেই ইঙ্গিত করছে। আমেরিকার আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির বিপরীতে ইরান যদি তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও প্রমিলা বাহিনীকে পুরোপুরি মাঠে নামিয়ে দেয়, তবে এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *