তীব্র গরমেও শরীরে ঘামের দেখা নেই, বড় কোনো বিপদের দিকে যাচ্ছে আপনার স্বাস্থ্য!

তীব্র গরমেও শরীরে ঘামের দেখা নেই, বড় কোনো বিপদের দিকে যাচ্ছে আপনার স্বাস্থ্য!

দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। বাইরে বেরোলেই যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে, সেখানে এই অসহ্য গরমেও অনেকের শরীরে ঘামের ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। আপাতদৃষ্টিতে একে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে ঘাম না হওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। বরং এটি শরীরের একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির পূর্বাভাস হতে পারে, যা সরাসরি হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

ঘাম মূলত মানবদেহের একটি স্বাভাবিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা। শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ঘামগ্রন্থিগুলো ত্বকের উপরিভাগে জলীয় পদার্থ বের করে দেয়। পরবর্তীতে সেই ঘাম বাতাসে শুকিয়ে যাওয়ার সময় শরীর শীতল বা ঠান্ডা হয়। কিন্তু তীব্র গরমেও যদি শরীর না ঘামে, তবে শরীরের এই প্রাকৃতিক ‘কুলিং সিস্টেম’ বা শীতলীকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

ঘাম বন্ধ হওয়ার নেপথ্য কারণ

চিকিৎসকদের মতে, গরমে ঘাম না হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো শরীরে তীব্র জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন। পর্যাপ্ত জল পান না করলে শরীর নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে জল বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং ঘাম হওয়া বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, পারকিনসন্স বা স্নায়ুর মতো কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুখ ঘামগ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। আবার কিছু ওষুধ, যেমন—অ্যান্টি-হিস্টামিন, অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেলেও ঘাম হওয়ার প্রক্রিয়া কমে যেতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি এবং ছোট শিশুদের ঘামগ্রন্থি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিপক্ব বা সক্রিয় না থাকায় তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও করণীয়

ঘাম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি যদি মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, পেশিতে টান, বমি ভাব কিংবা শুষ্ক ত্বকের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে শরীর হিটস্ট্রোকের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা না হলে মানুষের মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও পেশির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই বিপদ থেকে বাঁচতে তেষ্টা না পেলেও দিনভর বারবার জল পান করা জরুরি। দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস বর্জন করতে হবে। সর্বোপরি, গরমে শরীর ঘামানো বন্ধ করে দিলে সেটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না নিয়ে অবিলম্বে শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *