স্বাস্থ্যকর ব্রাউন ব্রেডের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য আপনার ঘুম উড়িয়ে দেবে

ওজন কমানো থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সকালের খাদ্যতালিকায় ব্রাউন ব্রেড বা বাদামি পাউরুটি অন্যতম প্রধান উপাদান। সাদা পাউরুটির চেয়ে এটিকে বেশি পুষ্টিকর মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাজারে উপলব্ধ অধিকাংশ ব্রাউন ব্রেডই আসলে শতভাগ স্বাস্থ্যকর নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় ধরনের বিপণন কৌশল।
বাদামি রঙের আড়ালে পরিশোধিত ময়দা
সাধারণ মানুষের ধারণা, ব্রাউন ব্রেড মানেই তা সম্পূর্ণ গমের আটা দিয়ে তৈরি এবং এতে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বেশিরভাগ বাদামি পাউরুটির মূল উপাদানই হলো পরিশোধিত ময়দা। খাদ্য লেবেলিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাউরুটিতে ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি গমের আটা থাকলেই সেটিকে ব্রাউন ব্রেড হিসেবে বাজারজাত করা যায়। বাকি অংশে মেশানো হয় ময়দা বা অন্যান্য পরিশোধিত উপাদান। আর এই পাউরুটিকে আকর্ষণীয় বাদামি রঙে রূপান্তর করতে ব্যবহার করা হয় ‘ক্যারামেল কালার’, যা সাধারণত বিভিন্ন সফট ড্রিঙ্কেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে বাইরে থেকে দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও গুণগত দিক থেকে এটি সাদা পাউরুটির চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়।
শারীরিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
আসল হোল গ্রেন বা পর্যাপ্ত ফাইবার না থাকায় এই কৃত্রিম ব্রাউন ব্রেড মানবশরীরে সাদা পাউরুটির মতোই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সাদা ও বাদামি পাউরুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মধ্যে পার্থক্য খুবই কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে দ্রুত ক্ষুধা লাগা, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া পাউরুটি দীর্ঘ সময় নরম ও তাজা রাখতে ব্যবহৃত নানা ধরণের প্রিজারভেটিভ, ইমালসিফায়ার ও কেমিক্যাল উপাদান মানুষের পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে, যা থেকে পরবর্তীতে হজমের সমস্যা ও শারীরিক প্রদাহ দেখা দেয়।
সচেতনভাবে চেনার উপায়
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাদামি রঙ বা প্যাকেটের বাহারি বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে ক্রেতাদের সচেতনভাবে খাবারের উপাদানের তালিকা বা লেবেল পড়ে কেনা উচিত। আসল স্বাস্থ্যকর পাউরুটি চেনার জন্য প্যাকেটে ‘১০০ শতাংশ গমের আটা’ বা ‘হোল হুইট’ লেখা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ফাইবারের পরিমাণ যাচাই করে নিতে হবে। একই সাথে কৃত্রিম ক্যারামেল কালার ও অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান বর্জিত পাউরুটি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ।