সরকার বদলেছে বলেই কি খুনের হুমকি? প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক টলিউড অভিনেতা সোহম!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার টলিউডের অন্দরেও শুরু হলো চরম উত্তেজনা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর কিছুটা আড়ালেই ছিলেন প্রাক্তন তারকা বিধায়ক তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। তবে এবার এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির মতো বিস্ফোরক অভিযোগ এনে ফের খবরের শিরোনামে এলেন তিনি। সোহমের দাবি, বিজেপির নাম ভাঙিয়ে ওই প্রযোজক তাঁকে সামাজিক হেনস্থা ও গুলি করে খুনের হুমকি দিচ্ছেন।
আট বছরের পুরোনো ছবি বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। মহুয়া চক্রবর্তীর পরিচালনায় এবং তরুণ দাস নামের এক প্রযোজকের ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তি সই করেছিলেন সোহম। নিয়ম মেনে তাঁর ডেট বুক করার জন্য অগ্রিম বাবদ ১৫ লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রযোজক ও পরিচালকের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে সিনেমাটির কাজ মাঝপথেই আটকে যায়। পরিচালক মহুয়া দেবী নিজেই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ান। সোহমের দাবি, তিনি বারবার প্রযোজককে অন্য পরিচালক নিয়ে কাজ শেষ করার অনুরোধ করলেও অপর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ আট বছর পর, হঠাৎ করেই চলতি বছরের মে মাসে ওই প্রযোজক অভিনেতার আপ্ত সহায়কের ফোনে যোগাযোগ করে সেই অগ্রিম টাকা ফেরত চান।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
সিনেমার নিয়ম অনুযায়ী, প্রযোজক নিজে ছবি তৈরি না করলে সাধারণত অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য হয় না। কারণ অভিনেতা সেই ছবির জন্য নিজের মূল্যবান সময় ও অন্যান্য সুযোগ হাতছাড়া করেন। সোহমও নতুন গল্প নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রযোজক তরুণ দাস তা শুনতে নারাজ। অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে ওই প্রযোজক বলেন, “সরকার বদলেছে, এবার সমস্যায় পড়বেন।” এমনকি অভিনেতাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো এবং গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রভাব টলিউডের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে পুরোনো পেশাগত বিরোধে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর প্রবণতা বাড়লে তা বিনোদন জগতের সুস্থ পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। আর্থিক বা পেশাগত মতবিরোধকে হাতিয়ার করে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন প্রাক্তন তারকা বিধায়ক। এই বিষয়ে কোনো আপস না করে তিনি আইনি পথেই হাঁটবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।