ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিনের জমি জট কাটল, নবান্নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিনের জমি জট কাটল, নবান্নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল রাজ্য। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তর করল নবগঠিত রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই যৌথ উদ্যোগকে দেশের সার্বিক সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় ‘মাইলফলক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ২৭ কিলোমিটার জমি সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পূর্বতন রাজ্য সরকারের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২২০০ কিলোমিটার। যার মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটারে ফেন্সিং থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটারের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের একাধিক চিঠি ও তৎপরতা সত্ত্বেও পূর্বতন সরকারের অনীহায় যে জট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার দ্রুততার সাথে তা নিরসন করল।

জমি হস্তান্তরের খতিয়ান ও কেন্দ্রীয় আর্থিক ভূমিকা

সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে মূলত দুই ধরণের জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের ৯টি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩২ একর সরকারি খাস জমি, যা সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৫টি জেলায় চিহ্নিত করা হয়েছে মোট ৪৩ একর ব্যক্তিগত বা রায়তি জমি। এই সরকারি ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমির সম্পূর্ণ আর্থিক মূল্য বহন করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর। যৌথ সহযোগিতার এই মডেল আগামী দিনে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি আনবে।

অনুপ্রবেশ রোধ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত

রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক ও দ্রুত সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি বিএসএফ নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) জানান, জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতদিন জমির অভাবে সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া বা স্থায়ী আউটপোস্ট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এখন প্রয়োজনীয় জমি হাতে আসায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচার এবং অন্যান্য চোরাচালান সম্পূর্ণ রুখে দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা আরও অনেক বেশি মজবুত করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার এই প্রয়াস ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন যুগে নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *