ক্ষমতা হারিয়েও কুরসিতে ফিরহাদ, ভাঙনের মুখে কলকাতা পুরসভা!

ক্ষমতা হারিয়েও কুরসিতে ফিরহাদ, ভাঙনের মুখে কলকাতা পুরসভা!

কলকাতা পুরসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও চরম প্রশাসনিক সংকটে পড়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে একের পর এক পুর নোটিস ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন জটিলতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের অফিস, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং তাঁর মায়ের বাড়ির দেওয়ালে বেআইনি নির্মাণের নোটিস সেঁটে দিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। দলীয় সূত্রে খবর, এই নোটিস জারির নেপথ্যে মেয়রের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা সায় ছিল না, যা তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা হ্রাসের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

মেয়রের অসহায়তা ও কাউন্সিলরদের দলবদলের হিড়িক

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নোটিস বিতর্ক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেখানে মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান যে, তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই পুর-আমলারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন সরকারের হাতে থাকায়, আমলারা মেয়রের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরাসরি রুল বুক মেনে চলছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে ফিরহাদ হাকিমকে ‘নিধিরাম সর্দার’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যার পদ থাকলেও কার্যনির্বাহী ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, তোলাবাজি ও বেআইনি নির্মাণে জড়িত থাকার অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে বহু তৃণমূল কাউন্সিলর বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার পথ খুঁজছেন, যার ফলে পুরবোর্ডে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ইস্তফার গুঞ্জন

পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৭ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে বা বেআইনি অংশ না ভাঙলে পুর কর্তৃপক্ষ নিজেই বুলডোজার দিয়ে বিতর্কিত সম্পত্তিগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পারিবারিক সম্পত্তি মেয়রের জমানায় ভাঙা পড়ার মতো চরম রাজনৈতিক অস্বস্তি এড়াতে ফিরহাদ হাকিম যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিলে তৃণমূলের পক্ষে নতুন বোর্ড গঠন করা কঠিন হবে। সেই সুযোগে রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভায় ‘প্রশাসক’ নিয়োগ করতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরভোট এগিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *