ক্রিকেটারদের ট্রেনিং দেখে হাসবে হকি খেলোয়াড়রা, সতীর্থদের ফিটনেস নিয়ে খোদ কোহলির বিস্ফোরক দাবি

ক্রিকেটারদের ট্রেনিং দেখে হাসবে হকি খেলোয়াড়রা, সতীর্থদের ফিটনেস নিয়ে খোদ কোহলির বিস্ফোরক দাবি

ভারতীয় ক্রিকেটে ফিটনেস সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের নেপথ্যে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি বিরাট কোহলি। ইয়ো-ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক করা থেকে শুরু করে কঠোর ডায়েট ও জিম রুটিন—গত এক দশকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের শরীরী ভাষাই বদলে দিয়েছেন এই মহাতারকা। অথচ সেই কোহলিই এবার সতীর্থ ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে ক্রীড়ামহলে জোর চর্চা উসকে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেসের স্তর দেশের হকি খেলোয়াড়দের ন্যূনতম ১৫ শতাংশও নয়। আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অকপটে এই সত্য তুলে ধরেন তিনি।

ফিটনেস কোনো বাড়তি গুণ নয়, ন্যূনতম প্রয়োজন

বিরাট কোহলির কাছে ফিটনেস কোনো অসাধারণ অর্জন বা আলাদা করে উদযাপনের বিষয় নয়, বরং এটি একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের ন্যূনতম স্বাভাবিক দাবি। ক্রিকেটের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে অন্য খেলাগুলোর পরিশ্রম আড়ালে চলে যায় বলে আক্ষেপ করেন তিনি। কোহলি স্পষ্ট জানান, হকি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা এবং ম্যাচ চলাকালীন তীব্রতা ক্রিকেটের চেয়ে বহুগুণ বেশি। পরিস্থিতি এতটাই ভিন্ন যে, হকি খেলোয়াড়রা যদি ক্রিকেটারদের বর্তমান ট্রেনিং সেশন দেখেন, তবে তাঁরা নির্ঘাত হাসবেন। ক্রিকেটে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও হকির তুলনায় তা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।

হকির কঠিন বাস্তবতা ও হকি মহলে প্রশংসা

কোহলির এমন মূল্যায়নের পেছনে রয়েছে হকির আধুনিক খেলার ধরন। অত্যন্ত দ্রুতগতির এই খেলায় খেলোয়াড়দের টানা দৌড়াতে হয়, মুহূর্তে দিক বদল করতে হয় এবং পুরো ম্যাচ জুড়ে হাই প্রেসিং বজায় রাখতে হয়, যা শরীরকে সর্বোচ্চ সীমায় ঠেলে দেয়। ক্রিকেটে বিরতির সুযোগ থাকলেও হকিতে সেই অবকাশ নেই বললেই চলে। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডিশনিং ও স্ট্যামিনার দিক থেকে হকি অনেক বেশি চাহিদাপূর্ণ।

কোহলির এই অকপট স্বীকারোক্তি হকি মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভারতীয় হকি দলের তারকা মিডফিল্ডার হার্দিক সিং একে মস্ত বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, যিনি নিজে ফিটনেসের মানদণ্ডকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁর মুখ থেকে এমন প্রশংসা হকি খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে। অন্যদিকে, জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংও কোহলির সঙ্গে তাঁর পুরোনো আলোচনার সূত্র ধরে জানান যে, বিরাট সবসময়ই হকির গতি এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস বেঞ্চমার্ককে সমীহ করে এসেছেন। দেশের এক নম্বর খেলার তারকা হয়েও অন্য খেলার কঠোর পরিশ্রমকে এভাবে মর্যাদা দেওয়া ক্রীড়াবিশ্বে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *