বিএমওএইচ-কে হেনস্থার শাস্তি! পুরুলিয়ার ৪ বিজেপি নেতাকে শোকজ রাজ্য নেতৃত্বের

বিএমওএইচ-কে হেনস্থার শাস্তি! পুরুলিয়ার ৪ বিজেপি নেতাকে শোকজ রাজ্য নেতৃত্বের

রাজ্যে ক্ষমতায় বসেই পাহাড়ের জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে বড়সড় অ্যাকশনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার কাজ শুরুর পরেই এই দুর্নীতির তদন্ত শুরু হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-তে বড় মাপের নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছিল বিজেপি। এতদিন বিরোধী আসনে থেকে যে দাবি তারা জানিয়ে আসছিল, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই পাহাড় নিয়ে কঠোর ‘সাফাই অভিযান’-এর হুঁশিয়ারি দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

তদন্তের মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত সরকারের আমলে পাহাড়ের এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক স্বার্থেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে ছিল বলে দাবি নতুন শাসকদলের। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পাহাড়ের রাজনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হতে চলেছে। এই তদন্তের জেরে পাহাড়ের একাধিক প্রভাবশালী নেতা এবং তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা আইনি বিপাকে পড়তে পারেন, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড়সড় ক্ষমতার রদবদল ঘটাতে পারে।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বিজেপি

অন্যদিকে পাহাড়ের হুঁশিয়ারির সমান্তরালেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে শাসকদল বিজেপি। সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লকে এক সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করার অভিযোগে দলের চার নেতা-কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপি আহ্বায়ক রাকেশ মাহাতো। এ ছাড়াও শোকজ করা হয়েছে ব্লকের সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিং, মণ্ডল ৪-এর সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমারকে।

অভিযোগ উঠেছে, বাঘমুন্ডির প্রসূতি নারীদের কেন ভিনরাজ্যের হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ বা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে পাথরডির স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করেন ওই বিজেপি নেতারা। দলের পক্ষ থেকে এই আচরণকে চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে দুর্নীতি দমনে কড়া অবস্থান এবং অন্যদিকে নিজস্ব দলের নেতাদের ঔদ্ধত্য বরদাস্ত না করার এই নীতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নতুন সরকার আইন ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়।

এক ঝলকে

  • রাজ্যে ক্ষমতায় বসেই পাহাড়ের জিটিএ নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরু করার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বর্তমান শাসকদলের।
  • সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থার অভিযোগে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির চার বিজেপি নেতাকে শোকজ করল দল।
  • শোকজ হওয়া নেতাদের মধ্যে জেলা পরিষদের সদস্য রাকেশ মাহাতোসহ স্থানীয় যুব ও মণ্ডল স্তরের প্রথম সারির পদাধিকারীরা রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *