“দলই বলেছিল দুর্নীতি নিয়ে চুপ থাকতে!” বিস্ফোরক তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত

দুর্নীতির বোঝা আর বইবেন না, বিস্ফোরক অভিযোগে দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের!
দুর্নীতি নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটার নির্দেশ দিয়েছিল খোদ দলীয় নেতৃত্বই! এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শাসকদলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের মুখে তাঁর এই মন্তব্য শুধু দলের অন্দরেই নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে। প্রকাশ্যেই দলের নীতি ও ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই বিধায়ক।
১৫ দিনের সময়সীমা ও আইপ্যাক বিতর্ক
বিধায়কের অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আইপ্যাকের কর্তারা তাঁকে ভোটের সময়ে দুর্নীতি নিয়ে কোনো কথা না বলার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, আইপ্যাকের বড় বড় বাবুদের সঙ্গে কথা বলতে হলে তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতে হত এবং তাঁদের নির্দেশেই দুর্নীতি নিয়ে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল, যাতে নির্বাচনে কোনো ক্ষতি না হয়। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দলকে স্পষ্ট ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন যে এই দুর্নীতির বোঝা তিনি আর বয়ে নিয়ে বেড়াবেন না।
জনপ্রতিনিধিদের একাংশের এমন ক্ষোভ প্রকাশের মূল কারণ হলো দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং নীচুতলার দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা। তৃণমূল বিধায়কের এই ক্ষোভ যদি ১৫ দিনের মধ্যে প্রশমিত না হয়, তবে আসন্ন নির্বাচনে দল বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদেরও প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস জোগাবে, যা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- দুর্নীতি নিয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য দলীয় নেতৃত্ব ও আইপ্যাক বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছিল বলে অভিযোগ।
- ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করেছেন বিধায়ক।
- দুর্নীতির বোঝা আর বইবেন না জানিয়ে দলকে আগামী ১৫ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছেন তিনি।
- নির্বাচনের মুখে এই ক্ষোভ দলের ভাবমূর্তি এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।