চিঠির ভুলে আটকে শোভনদেবের স্বীকৃতি, বিধানসভায় নজিরবিহীন আইনি জটিলতা!

ভোট পরবর্তী বাংলার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসন নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি জটিলতা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে বিধানসভায় চিঠি পাঠানো হলেও, খোদ স্পিকারের আপত্তিতেই এখনও ঝুলে রয়েছে সেই স্বীকৃতি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে বড়সড় আইনি ‘গলদ’ থাকার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিষেকের চিঠিতে বড়সড় খামতি
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসিমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহকারী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় নথির অভাবে। বিধানসভার সচিব জানিয়েছেন, ওই চিঠির সঙ্গে দলীয় বৈঠকের কোনো ‘রেজোলিউশন কপি’ বা ‘মিনিটস’ জমা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ঠিক কতজন বিধায়ক এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন এবং বৈঠকটি কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ চিঠিতে নেই। এই আইনি খামতির কারণেই স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু আপাতত এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে সভার রেজোলিউশন কপি জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনি জটিলতা ও অতীতের নজির
বিধানসভা সচিবালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন নয়, বরং সম্পূর্ণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি মেম্বার্স এমোলিউমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৩৭’-এর নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষের। অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। ফলে কোনো নিয়ম না মেনে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ স্পিকার।
স্বীকৃতি পেতে শোভনদেবের আরটিআই অস্ত্র
এদিকে বিধানসভার অলিন্দে এই জটিলতা তৈরি হতেই নিজের অধিকার বুঝে নিতে ময়দানে নেমেছেন খোদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে ঠিক কী পদ্ধতিতে এবং কী কী নথি জমা দিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছিল, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। বিধানসভা সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই আরটিআই-এর জবাব দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই প্রক্রিয়াগত ভুলের কারণে আপাতত লালফিতের ফাসেই আটকে রইল বিরোধী দলনেতার নাম। নতুন করে রেজোলিউশনের কপি জমা না পড়া পর্যন্ত এই জটিলতা কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই।