‘দুর্নীতির বোঝা বইব না, চুপ থাকতে বলেছিল আইপ্যাক ও দলীয় নেতৃত্ব!’ এবার বিস্ফোরক উলুবেড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে একের পর এক ভাঙন, ইস্তফা এবং ক্ষোভের যে সিলসিলা শুরু হয়েছে, তাতে এবার যোগ হলো আরও একটি মারাত্মক অধ্যায়। সুজিত বসু, দেবরাজ চক্রবর্তীদের গ্রেফতারি কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির ওপর পুরসভার সাঁড়াশি চাপের মাঝেই এবার সরাসরি দলের অন্দরের দুর্নীতি ও ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর দাদাগিরি নিয়ে বিস্ফোরক মুখ খুললেন উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিগত দিনে দলে থেকে কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই চাঞ্চল্যকর খতিয়ান সামনে এনেছেন তিনি। বিধায়ক ঋতব্রতর এই মন্তব্য ছাব্বিশের রাজনৈতিক ডামাডোলে ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
আইপ্যাকের বাবুদের কাছে তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতে হতো!
বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। প্রশান্ত কিশোরের তৈরি করা পেশাদার রাজনৈতিক সংস্থা ‘আইপ্যাক’ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“দলের মধ্যে কোনো কাজের কথা বলতে গেলে বা আইপ্যাকের বড় বড় বাবুদের সঙ্গে দেখা করতে হলে আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তীর্থের কাকের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে বসে থাকতে হতো। আর সেই আইপ্যাকের লোকেরাই আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ভোটের সময় দুর্নীতি নিয়ে যেন একটা কথাও মুখ থেকে না বের করা হয়। দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে দলেরই মুশকিল হবে বলে মুখ বন্ধ রাখার নিদান দেওয়া হয়েছিল।”
১৫ দিনের সময় নেব, কিন্তু পাপের বোঝা আর বইব না
মালদার বিধায়ক মতিবুর রহমানের আকস্মিক দিল্লি সফর কিংবা ফলতার বাহুবলী জাহাঙ্গির খানের ভোট থেকে পিছু হটার আবহেই ঋতব্রতর এই ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূলের অন্দরের গভীর ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনেছে। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলবদলের জল্পনা উস্কে দিয়ে বিধায়ক স্পষ্ট জানান, “আমি দল ও প্রশাসনের কাছে ১৫ দিনের সময় নেব। কিন্তু এই দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ বোঝা আমি আর কোনোভাবেই নিজের ঘাড়ে বয়ে নিয়ে বেড়াব না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সরকারের ‘ফ্রি হ্যান্ড’ পুলিশি তৎপরতা এবং একের পর এক দুর্নীতির পুরোনো ফাইল খোলার জেরেই এখন তৃণমূলের জেলা স্তরের বিধায়ক ও নেতারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে একে একে বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ১৫ দিনের চরম হুঁশিয়ারির পর তিনি শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু সরকারের শরণাপন্ন হন নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক পথ বেছে নেন, এখন সেটাই দেখার।