কালীঘাটে অভিষেকের দুয়ারে পুর-নোটিশ, ‘বৈধ কাগজ না মিললে ৭ দিনে চলবে বুলডোজার!’ চরম অ্যাকশনে শুভেন্দু সরকার

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ এবার চূড়ান্ত রূপ নিল। মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান তলব করার পর, বুধবার বিকেলে সরাসরি অ্যাকশনে নামল নবগঠিত শুভেন্দু অধিকারী সরকার ও কলকাতা পৌরসংস্থা (KMC)। আজ বিকেলে খাস কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে সশরীরে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে এলেন পুরসভার কর্মীরা।
তৃণমূল সাংসদের বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) এবং তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এই কড়া নোটিশ জারি করা হয়েছে। পুরসভার এই আকস্মিক ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি ছাব্বিশের রাজনৈতিক উত্তাপকে এক ধাক্কায় নজিরবিহীন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
৭ দিনের ডেডলাইন, বেআইনি প্রমাণ হলেই গুঁড়িয়ে যাবে সম্পত্তি!
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় এই চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোড সংলগ্ন এই সমস্ত মেগা সম্পত্তির নির্মাণ ও নকশা সম্পূর্ণ আইনসম্মত উপায়ে করা হয়েছিল কি না।
পুরসভার বিজ্ঞপ্তিতে যে মারাত্মক হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা থমকে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকে:
“লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা এই সম্পত্তিগুলির সমস্ত বৈধ কাগজ ও পুর-অনুমোদনের নকশা আগামী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেখাতে হবে। যদি সন্তোষজনক ও আইনি কাগজপত্র পেশ করতে ব্যর্থ হয় পরিবার, তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ওই সমস্ত বেআইনি সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”
‘ভাইপোর’ সাম্রাজ্যে যোগী মডেল? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’ এবার বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকারও অবিকল প্রয়োগ করতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এর আগে ফলতার ভোটযুদ্ধ থেকে বাহুবলী জাহাঙ্গির খানের পিছু হটে যাওয়া, কিংবা রাজারহাটের দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পর আজ সরাসরি মমতার পাড়ায় পুরসভার এই হাই-প্রোফাইল হানা প্রমাণ করছে যে, বিদায়ী জমানার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতে অলআউট ময়দানে নেমেছে নতুন প্রশাসন।
অন্যদিকে, বোরো চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের আকস্মিক পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৯ নম্বর বোরো অফিসের কর্মীদের এই অতি-সক্রিয়তা কলকাতা পুরসভার অন্দরেও এক বিরাট কম্পন সৃষ্টি করেছে। এই চরম নোটিশের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দ্বারস্থ হন নাকি পুরসভার কাছে অতিরিক্ত সময় চান, এখন সেটাই দেখার।