ফেসবুক পোস্টে উস্কানি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ, কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর রাজ্যজুড়ে যখন একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এবার বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন কৃষ্ণনগরের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৫০)-এর সাম্প্রতিক একটি সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি পোস্টকে ঘিরে নদিয়া জেলায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য এবং ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা’-র মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে নদিয়ার করিমপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের পোস্ট ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের তরফ থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ সংশোধন বা তার কঠোর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নতুন সরকারি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন জারি করা হয়েছিল। সেই আইনি নির্দেশিকার প্রেক্ষিতেই নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
অভিযোগ, সেই পোস্টে তিনি নতুন সরকারের এই নির্দেশিকাকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ বিজেপি নেতার
মহুয়া মৈত্রের এই বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টটি সামনে আসার পরেই নদিয়া জেলা বিজেপির অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে করিমপুর থানায় গিয়ে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি:
- সম্প্রীতি ভঙ্গের চেষ্টা: মহুয়া মৈত্র রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং সরকারের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
- উস্কানিমূলক মন্তব্য: তাঁর এই পোস্টের ভাষা অত্যন্ত উস্কানিমূলক, যা নদিয়া তথা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে আইন-শৃঙ্খলার বড়সড় অবনতি ঘটাতে পারে।
আইনি ঘেরাটোপে ঘাসফুলের হেভিওয়েটরা, অস্বস্তি নদিয়ায়
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি এবার উত্তর ও মধ্য বঙ্গ এবং নদিয়ার জেলা রাজনীতিতেও নতুন জমানার পুলিশি ও আইনি স্ক্রুটিনি যে অত্যন্ত কড়া হতে চলেছে, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এই এফআইআর তারই বড় প্রমাণ। এর আগে সমতলে পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি, সল্টলেক-কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ এবং উলুবেড়িয়ায় বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক বিদ্রোহের পর, এবার নদিয়ার এই হেভিওয়েট নেত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল।
করিমপুর থানা সূত্রে খবর, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।