‘১ বছরের মধ্যে দেওয়া কথা পূরণ করব, মাফিয়ারাজ-কাটমানিমুক্ত হবে বাংলা’, উত্তরবঙ্গ থেকে ব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শাসক-বিরোধী ঐক্যের মেগা বার্তা দেওয়ার পর, এবার রাজ্যের শাসনব্যবস্থা আমূল বদলে ফেলার এক বড় সংকল্প নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন যে, নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় বাংলা থেকে ‘কাটমানি’ ও ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। একই সাথে পাহাড়ে জিটিএ দুর্নীতির ফাইল খোলার হুঁশিয়ারির পর, এবার সমতলের মাফিয়ারাজ বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট ডেডলাইনও বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই কড়া ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা রাজ্য প্রশাসনে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংকল্পপত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে ১ বছরের ডেডলাইন
উত্তরবঙ্গের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এবং সময়সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দল যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“আমরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন করতে আসিনি, আমরা চেয়েছি ব্যবস্থার পরিবর্তন। নির্বাচনের আগে আমাদের সংকল্পপত্রে সাধারণ মানুষকে যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আগামী ১ বছরের মধ্যে সেই সমস্ত কথা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই সরকার কোনো নির্দিষ্ট দল বা নেতার অঙ্গুলিহেলনে চলবে না, বরং “জনগণের কথায় এই সরকার চলবে।” সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগই হবে এই সরকারের পথ চলার মূল ভিত্তি।
উন্নয়নের কাজে অগ্রাধিকার পাবে উত্তরবঙ্গ
বিগত সরকারের জমানায় উত্তরবঙ্গ ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে বিরোধী আসনে থাকার সময় থেকেই বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। এবার ক্ষোভ প্রশমনে নবান্নের রাশ হাতে নিয়েই উত্তরবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন সরকারের মেগা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও বাজেটের ক্ষেত্রে এবার থেকে উত্তরবঙ্গ বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।
তৃণমূলের দুর্নীতিকে নিশানা, সমতলে কড়া বার্তার ইঙ্গিত
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘কাটমানি ও সিন্ডিকেটমুক্ত’ সরকারের বার্তা আসলে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে এক কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি। একদিকে যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি এবং কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ নিয়ে শোরগোল চলছে, ঠিক তখনই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘মাফিয়ারাজ’ খতম করার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন জুনে মহিলাদের বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য ‘পিংক কার্ড’-এর মতো বড় সামাজিক প্রকল্প আনছেন, ঠিক তেমনই অন্যদিকে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে নিজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছেন। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই ১ বছরের ডেডলাইনের মধ্যে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসে।