‘আগের সরকারের উদাসীনতায় রাজ্য আজ ভয়ানক সংকটে’, তোপ শুভেন্দুর

সীমান্তের কাঁটাতারের জট কাটাতে এবং অনুপ্রবেশের পথ চিরতরে বন্ধ করতে এবার আরও এক ধাপ কড়া ও চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের সফর থেকে প্রথম দফায় ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের কথা ঘোষণার পর, এবার গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের ওপর এক বিরাট দায়িত্ব সঁপলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে জমি না দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ আজ এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে নতুন বিজেপি সরকার দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এই অচলবস্থা আর এক মুহূর্তও বরদাস্ত করবে না।
ভূমি সচিব ও মুখ্যসচিবকে ৪৫ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন
সীমান্তের কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি যাতে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে পৌঁছায়, তার জন্য আমলাতান্ত্রিক লালফিতের ফাঁস এক ঝটকায় কেটে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নির্দেশ দিয়ে জানান:
- শীর্ষ আমলাদের দায়িত্ব: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব সচিবকে (Land Revenue Secretary) এই জমি হস্তান্তরের পুরো বিষয়টি দেখভালের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ৪৫ দিনের সময়সীমা: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে (Within 45 Days) সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে চিহ্নিত জমি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীকে বিএসএফ-এর রাজকীয় অভ্যর্থনা
সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন ও দ্রুত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফ থেকেও। প্রশাসনিক বৈঠকের মাঝেই বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চমৎকার ফুলের তোড়া এবং বিশেষ স্মারক (Memento) দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিগত কয়েক দশক ধরে নবান্নের সাথে বিএসএফ-এর যে সমন্বয়ের অভাব ছিল, এই সৌজন্য বিনিময় তা মুছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
‘আগের সরকার জমি দেয়নি, তাই রাজ্য আজ ভয়ানক পরিস্থিতির মুখে’
বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তোষণ নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে এক মারাত্মক অভিযোগ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি জটের আসল কারণ ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“বাংলাদেশ সীমান্তকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করার জন্য বিএসএফ অনেক আগেই রাজ্যের কাছে প্রয়োজনীয় জমি চেয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে সেই জমি দেয়নি। আর সেই কারণেই আমাদের এই প্রিয় রাজ্য আজ এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। অনুপ্রবেশকারী ও অসামাজিক উপাদানেরা এই খোলা সীমান্তকে ব্যবহার করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার বারোটা বাজিয়েছে।”
জাতীয় নিরাপত্তা ও ‘ডিপোর্ট’ আইনের জোড়া ফলা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নবান্নের রাশ হাতে নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ আইন কার্যকর করেছেন এবং একই সাথে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী মাস্টারস্ট্রোক।
একদিকে যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি, সল্টলেক-কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ এবং নদিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই শুভেন্দু অধিকারী ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সীমান্ত সুরক্ষা’ ইস্যুকে ফ্রন্টফুটে এনে প্রশাসনকে এক নতুন গতি দিলেন। এর ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এক ঐতিহাসিক ও নিশ্ছিদ্র সুরক্ষার ঘেরাটোপে চলে আসতে চলেছে।