পান-গুটখা মুখে ঢুকলেই ধোয়ানো হবে মুখ! নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া দাওয়াই বিধায়কের

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলির হাল ফেরাতে এবার একবারে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন জনপ্রতিনিধিরা। বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এক অভিনব ও কড়া নির্দেশ দিলেন কালনার নতুন বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। হাসপাতালের দেওয়ালে দেওয়ালে পানের পিক আর নোংরা আবর্জনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই অন ডিউটি নিরাপত্তারক্ষীদের স্পষ্ট নিদান দেন— পান বা গুটখা মুখে নিয়ে কোনো রোগীকে বা তাঁদের পরিজনদের হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে তাঁদের মুখ ধুইয়ে, তবেই ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর নবান্নের পাশাপাশি জেলায় জেলায় স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন শাসক দলের এই কড়াকড়ি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হাসপাতালের দেওয়ালে পানের পিক দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়ক, দিলেন কড়া ফরমান
বুধবার কালনা মহকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পরিদর্শনে যান বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার সময় হাসপাতালের দেওয়ালে যত্রতত্র পানের পিক এবং নোংরা দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল ও জীবাণুমুক্ত জায়গায় এই ধরণের অসচেতনতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে বিধায়ক নির্দেশ দেন, এখন থেকে মূল ফটকেই কড়া নজরদারি চালাতে হবে। কেউ যদি পান বা গুটখা মুখে নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন, তবে তাঁকে বাইরেই আটকে দিতে হবে এবং মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে আসার পর তবেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
পরিষেবা নিয়ে হাই-প্রোফাইল বৈঠক, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা
হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কড়া বার্তার পাশাপাশি এদিন দুই হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালের সুপার, চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিধায়ক নিজে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যান এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। রোগীরা ঠিকমতো ওষুধ পাচ্ছেন কিনা, খাবারের গুণগত মান কেমন এবং সর্বোপরি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের পরিষেবা নিয়ে তাঁদের কোনো ক্ষোভ বা অভাব-অভিযোগ রয়েছে কিনা— সেই সমস্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।
একের পর এক জনমুখী পদক্ষেপ, নয়া জমানায় বদলে যাচ্ছে চেনা ছবি
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্য ও সরকারি পরিষেবার মান বাড়াতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একদিকে যখন কল্যাণী এইমসে অত্যাধুনিক লেজার ইউনিট চালু হচ্ছে আর অন্যদিকে উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর প্রতি সপ্তাহে গণ-শুনানির মেগা মডেল তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই কালনার এই হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার দাওয়াই আসলে সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন ভরসা তৈরি করছে। বিগত জমানায় সরকারি হাসপাতালগুলির একাংশের যে বেহাল দশা এবং নোংরা পরিবেশ নিয়ে বারবার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিতেন, নতুন সরকারের এই ঝটিকা সফর ও কড়া নজরদারির জেরে সেই চেনা ছবিটা এবার দ্রুত বদলে যেতে চলেছে।