স্ত্রীকে ফের বিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের! টিকিট না মেলায় ক্ষোভ, এবার খবরের শিরোনামে খগেশ্বরের ব্যক্তিগত জীবন

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন প্রাক্তন ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন নিয়ে নবান্নে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ঘটল এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত মজাদার ঘটনা। ৫২ বছরের সফল দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর, আইনি বাধ্যবাধকতায় নিজের স্ত্রীকেই দ্বিতীয়বার রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে বিয়ে করলেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়।
অবসরজীবনে এসে প্রাপ্য বিধায়ক পেনশন (MLA Pension) চালু করার আইনি জট কাটাতেই খগেশ্বর বাবুর এই অভিনব ‘বিবাহ অভিযান’ এখন জলপাইগুড়ি জেলা ছাড়িয়ে গোটা রাজ্যের সোশাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
টিকিট না মেলায় ক্ষোভ, এবার খবরের শিরোনামে খগেশ্বরের ব্যক্তিগত জীবন
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভার দীর্ঘদিনের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক ছিলেন খগেশ্বর রায়। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে আর টিকিট দেয়নি। তাঁর বদলে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছিল প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে। টিকিট না পেয়ে রাগের চোটে দল ও রাজনীতি ছাড়ার মেগা ঘোষণা করলেও, খগেশ্বর বাবু এখনও পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরেই রয়ে গেছেন। তবে রাজনৈতিক ডামাডোল থিতিয়ে আসতেই এবার তাঁর এই ব্যতিক্রমী বিয়ে নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে এলাকায়।
৫০ বছর আগের নথি ‘নট সাফিসিয়েন্ট’, আদালতের নির্দেশে ফের ছাদনাতলায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সত্তরের দশকে প্রতিমা রায়ের সঙ্গে ধুমধাম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রাজনীতিক খগেশ্বর রায়। বর্তমানে দুই পুত্র এবং দুই কন্যা নিয়ে তাঁদের ভরা সংসার। কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর যখন তিনি পেনশনের জন্য আবেদন করেন, তখন দেখা দেয় এক চরম আইনি জটিলতা।
- শংসাপত্রের জট: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পেনশনের টাকা অ্যাকাউন্ট সচল করতে হলে খগেশ্বর বাবুকে তাঁর বিবাহের বৈধ ম্যারেজ সার্টিফিকেট (Marriage Certificate) জমা দিতে বলা হয়।
- আদালতে গ্রাহ্য হয়নি পুরনো নথি: প্রায় ৫০ বছর আগে হওয়া তাঁদের সামাজিক বিয়ের কোনো নথি বা প্রমাণই বর্তমান ডিজিটাল আইনি ব্যবস্থার কাছে পর্যাপ্ত এবং প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
কোনো উপায় না দেখে, আইনি কাগজপত্রের বাধ্যবাধকতা মেটাতেই পাঁচ দশক পর ফের ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের দফতরে গিয়ে স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে আইনিভাবে সই-সাবুদ করে বিয়ে সারলেন রাজগঞ্জের এই প্রাক্তন বিধায়ক।
‘নিজের স্ত্রীকেই দু’বার বিয়ে করার সুযোগ ক’জনের ভাগ্য হয়!’ সরস খগেশ্বর
এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রসিকতা করেন খগেশ্বর রায়। তিনি মৃদু হেসে বলেন:
“নেহাতই সরকারি প্রয়োজন এবং আইনি নথিপত্রের জটিলতা কাটাতেই আমাকে এই বয়সে এসে আবার বিয়ে করতে হলো। রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতন দেখেছি, একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু অবসরজীবনে নিজের প্রাপ্য পেনশনের আবেদন করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা আগে কখনো ভাবিনি!”
একই সাথে তাঁর সরস সংযোজন, “তবে একটা কথা বলব, সবার ভাগ্যে কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা হয় না। নিজের স্ত্রীকেই জীবনের এই প্রান্তে এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সুযোগ আর ক’জন পুরুষ পান বলুন তো!” তিনি আরও জানান, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা আত্মীয়স্বজন ডেকে বড় আয়োজন করা হয়নি, স্রেফ আইনি নিয়ম মেনেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন নবান্নের কড়া নির্দেশে সরকারি আধিকারিকদের ফাইল ফাঁসের ওপর ‘সেন্সর’ গাইডলাইন জারি হয়েছে আর অন্যদিকে সল্টলেকের তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার তোলাবাজির দায়ে জেল খাটছেন, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের ‘পেনশন ও বিয়ের গল্প’ আমজনতার মুখে কিছুটা হলেও হাসির খোরাক জোগাল।