বিশ্বের ১০০ উষ্ণ শহরের সবগুলিই ভারতে, তালিকায় রয়েছে বাংলার দুই জেলা

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। বৈশাখ পেরিয়ে সবে জ্যৈষ্ঠের শুরু, এর মধ্যেই আবহাওয়ার এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। একিউআই ডট ইন-এর লাইভ তাপমাত্রা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সব ক’টিই ভারতে অবস্থান করছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এই শহরগুলির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪ ডিগ্রি থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তীব্র গরমের এই তালিকায় খোদ কলকাতার নাম না থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গের দুই শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও বর্ধমান ঠাঁই পেয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে নতুন করে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসমভবন।
রেকর্ড ভাঙা গরম ও বিপর্যস্ত জনজীবন
চলতি সপ্তাহে দেশের অন্তত সাতটি নগরে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। রাজধানী দিল্লি গত দুই বছরের মধ্যে মে মাসের উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করেছে। একই রকম ভয়ংকর তাপপ্রবাহ বইছে ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গোয়ালিয়র, কোটা ও রায়পুরের মতো শহরগুলিতে। শুধু সমভূমি নয়, নজিরবিহীন গরমে নাজেহাল পাহাড়ি অঞ্চল জম্মুও। এমনকি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় শহর হরিদ্বারও এবার বিশ্বের উষ্ণতম শহরের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ভাটিন্ডা, পঠানকোট, বরেলি, ঝাঁসি ও কইথলের মতো শহরের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৬ ডিগ্রিতে।
উষ্ণায়নের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা আসতে এখনও অনেক দেরি এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের অভাব ও শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের কারণেই মূলত উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাপমাত্রা এভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এই চরম আবহাওয়ার কারণে সাধারণ জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়ছে। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের চাহিদা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় সংকট তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহের ফলে কৃষিকাজে বড় ধরনের ক্ষতি এবং হিট স্ট্রোকসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।