১১ দিনে শুভেন্দুর ঝোড়ো ব্যাটিং, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নজিরবিহীন গতি নবান্নে
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/19/suvendu-adhikari-2026-05-19-10-40-08.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ৪ মে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর, ৯ মে রাজ্যের অষ্টম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। মাত্র ১১ দিনের মাথায় নবান্নের অন্দরে এখন তুমুল ব্যস্ততা। নির্বাচনী প্রচারের ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দেওয়া একগুচ্ছ জনমোহিনী ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে নতুন সরকার। সামাজিক কল্যাণ থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকগুলো থেকেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়েছে।
আর্থিক স্বস্তি ও সামাজিক কল্যাণে মাস্টারস্ট্রোক
নতুন সরকারের অন্যতম বড় চমক ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ হওয়া নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে দ্বিগুণ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে শুভেন্দু সরকার। আগামী মাস থেকে রাজ্যের মহিলারা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এর পাশাপাশি, ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফরের সুবিধাও চালু হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকেই সপ্তম পে কমিশন চালুর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে, যার ফলে একলাফে কর্মীদের বেতন বাড়ছে অনেকটাই। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারি চাকরির ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় ৫ বছর বৃদ্ধি করেছে নতুন প্রশাসন।
জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমনে কড়া পদক্ষেপ
সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রুখতে দীর্ঘদিনের জমিজট মিটিয়ে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে রাজ্যে ‘পুশব্যাক’ আইন কার্যকর করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে দুটি পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ১ জুন থেকে কাজ শুরু করবে। এছাড়া, আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খুলে ইতিমধ্যেই তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কেন্দ্রীয় মডেল
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’র বদলে এবার চালু করা হলো ৫ লক্ষ টাকার সুবিধাযুক্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে বলবৎ করা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি)। এই নীতির অধীনে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ‘পিএমশ্রী’ বিদ্যালয় গড়ে তোলার সপক্ষেও সবুজ সংকেত দিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। স্বল্প মেয়াদে এই বিপুল নীতিগত পরিবর্তন রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।